ধর্ষণ ধর্ষিতার লাশ এবং আমাদের বিবেক!

সোনালী কন্ঠ,১১ মে ২০১৯,শনিবারঃ ধর্ষণ,ধর্ষিতার লাশ এবং আমাদের বিবেক! ধর্ষণের খবর দেখলেই সুবির সাহেব পত্রিকা পুড়ে ফেলেন।এভাবে প্রতিদিন পত্রিকা পোড়ানোর অভ্যাস সুবির সাহেবের।প্রতিবাদের আর কোন উপায় নেই বিধায় ধর্ষণের বিরুদ্ধে তিনি নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন পত্রিকা পুড়িয়ে।আর একদল উৎসুক সুবির সাহেবের কান্ড দেখে দাঁত কেলিয়ে হাঁসে।যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনারা হাঁসেন কেন?জবাব দেয় পত্রিকা পুড়িয়ে লাভ কি পারলে দু’একটা ধর্ষক পুড়িয়ে দেখালেই তো হয়।পুনঃ জবাব,তো মশাই আপনার কি দায়িত্ববোধ নেই?আপনারা দাঁত কেলিয়ে না হেঁসে আসুন না ধর্ষক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আর কোন জবাব নেই।

একদিন দেখা গেলো দাঁত কেলিয়ে হাঁসতে থাকা ব্যাক্তিদের মধ্য কারও বোন,স্ত্রী বা আত্মীয় ধর্ষণের শিকার।এবার তিনিও ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার।

হ্যাঁ এটাই তো চলছে এখন।প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে আপনার অথবা আমার বোন।ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হচ্ছে। যত্রতত্র ধর্ষণ,রাস্তায় ধর্ষণ,বাসে ধর্ষণ,বাড়িতে ধর্ষণ,নিজ পরিবারের কারও হাতে ধর্ষণ,পাঁচ তারকা হোটেলে ধর্ষণ।যেদিকে তাকাই শুধু ধর্ষণ।

ধর্ষক গুলো কারা?
এই ধর্ষকদের পরিচয় কি?
আপনার আমার পরিবার,সমাজ,আত্মীয় বা এই রাস্ট্রের নাগরিকই তো তারা।

ধর্ষিতা কারা?
কি তাদের পরিচয়?
ধর্ষিতারা কারও বোন,কারও মা,কারও স্ত্রী।
আমার আপনার পরিাবারের মা,বোন,স্ত্রী এবং কন্যা সন্তানদের দিকে তাকিয়ে দেখুন। দেখেন তো এরাও আমাদের চারপাশে ধর্ষিত হওয়া নারীদের মত দেখতে একরকম কিনা।
হ্যাঁ একই রকম।তাহলে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কেন?
ধর্ষকের কি মা বোন মেয়ে স্ত্রী নেই?ধর্ষক কি তার মা বাবার সন্তান নয়?নাকি ধর্ষকরা তার মা,বোন,স্ত্রী,কন্যাদেরও ধর্ষণ করে!

ধর্ষণের মহামারী বন্ধে আমাদের কি কোন দায়বদ্ধতা নেই?
প্রশাসন,সমাজ, পরিবারের কি কোন দায়িত্ব নেই?

ধর্ষকের নাকি আবার রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকে।পারিবারিক পরিচয়ও থাকে।
কোন রাজনৈতিক দল এবং কোন পরিবার থেকে উঠে আসে এসব ধর্ষক? ঐসব দল ও পরিবার কি মা বোন এর শ্রদ্ধা কিভাবে করতে হয় সেটা শিক্ষা দেয় না?নাকি শুধু নেতা বানিয়ে আর জন্ম দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছে ধর্ষণের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে।

আমাদের দেশে মিতু,তনু,তানিয়া সহ অনেক বোন ধর্ষকের ছোঁবলে প্রাণ হারিয়েছে। আমরা তো সেই ধর্ষকদের বিচার করতে পারিনি।মৃত্যুর পর ধর্ষিতার আত্মার শান্তি নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ আমরা,আমাদের বিবেকের আদালতে আমরা আজ আসামি।ধর্ষণ ধর্ষিতার লাশ এবং আমাদের বিবেক!

ধর্ষণ মামলার আসামি জামিনে বেরিয়ে আবার ধর্ষণ করে বেড়াচ্ছে।কত বড় ক্ষমতা।

আমরা কি পারিনা আমাদের মা,বোন,স্ত্রী, কন্যার নিরাপদে পথ চলা নিশ্চিত করতে?
কোন ব্যবস্থা কি নেই ধর্ষণের মহামারী পরিস্থিতি দমন করতে?

পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যা,গান পাউডারে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা যদি বন্ধ হতে পারে,তাহলে ধর্ষণের মহামারীতাও বন্ধ হতে পারে।দরকার শুধু আমাদের এবং রাস্ট্রের সদিচ্ছা।

আমাদের ঘুমানো বিবেক জাগ্রত করতে হবে।ধর্ষকের সাথে বসে এক টেবিলে চা খাওয়া বন্ধ করতে হবে,একই রাজনৈতিক মঞ্চে উঠতে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।সকল হাত মুষ্টিবদ্ধ স্লোগান দিতে হবে “ধর্ষকের কোন জন্ম পরিচয় নেই,ধর্ষকের কোন নাগরিকত্ব নেই।”

আরও পড়ুনঃ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং আমাদের দায়বদ্ধতা। > http://sonalikantha.com/সমাজের-নৈতিক-অবক্ষয়-এবং/

তাহলেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা কলঙ্ক মুক্ত হবে।আমরা বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবো। ধর্ষণ,ধর্ষিতার লাশ এবং আমাদের বিবেক!

ইব্রাহিম খলিল দিপু,
সমাজকর্মী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here