যেসব কারনে কুরবানি দিলেও হবেনা।

সোনালী কন্ঠ ডেস্কঃ কোরবানি শব্দের অনুবাদ ত্যাগ আর ঈদ মানে খুশি।কুরবানির ঈদ মানে খুশির ত্যাগ।আল্লাহর সন্তুষ্টি অরজনের লক্ষে পশু কুরবানি করে বান্দাদের আনন্দবোধ হয়।

কুরবানি হলো ওয়াজিব।অধিকাংশ মুসলমান কুরবানি দিতে চান। কিন্তু অনেকেই কুরবানি সম্পরকে ইসলামের বিধান না জানায় ঠিকমত কুরবানি দিতে পারেনা।ফলে তাদের কুরবানি শুদ্ধ হয়না।

যেসব কারনে কুরবানি হবেনা তা উল্লেখ করা হলোঃ

১)পশু কোরবানির মাধ্যমে মালের কোরবানি হবে সেই সাথে মনেরও কোরবানি হবে।এই কোরবানির ্পশু জবাই করতে প্রচুর পরিমানে টাকা খরচ হয়।এই টাকার প্রতি মায়া ত্যাগ করে কোরবানি দিতে হয়।তাহলেই কোরবানি সহিহ হয়।
২)কো্রবানি করতে গেলে মনের মধ্যে যদি গোশ্ত খাওয়ার চিনতা থাকে তাহলে ওই ব্যাক্তির কোরবানি সহিহ হবেনা।

৩)সুদ,ঘুষ ও অসৎ টা্কায় কোরবানি দিলে কোরবানি সহিহ হবেনা।

৪)কোরবানির পশু ভাগে ক্রয় করলে অংশিদারদের মনের ভেতর কোন প্রকার গলদ থা্কলে কোরবানি হবেনা।

কোরবানি সহিহ করতে মাংশ বন্টন ও বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে।হাদিস শরিফ অনুযায়ী তু্লে ধরা হলো।

১)শরিকে কোরবানি করলে ওজন করে বন্টন করতে হবে।অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নয়।

২)কোরবানি গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরিব মিসকিনকে  এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয় স্বজনকে ভাগ করে দিতে হবে।

৩)কোরবানির গোশত বিক্রি করা জায়েজ নয়।বিক্রি করলে পূর্ণ টাকা সদকা দিতে হবে।

৪)কোরবানির গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের দেয়া জায়েজ।

৫)জবাইকারী, কসা্ই বা পশু কোরবানির কাজে সহায়তাকারী্কে চামড়া ,গোশত বা কোরবানির পশুর কোন কিছু দেয়া জায়েয হবেনা।

৬)কোরবানির চামড়া কোরবানিদাতা নিজেও ব্যাবহার করতে পারবেন।তবে কেউ যদি নিজে ব্যাবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্দ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরী।

৭)এক কোরবানির পশুতে আকীকা ,হজ্জের নিয়ত করা যাবে।এতে প্রত্যেকের নিয়ত করা ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।

৮।ঈদুল আযহার দিন প্রথম নিজ কোরবানির গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত।সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কোরবানির গোশত খাওয়া সুন্নত।এই সুন্নত শুধু যিলহজ্জের জন্য।

৯)কোরবানির সময় অনেক মহাজন পশুর হাড় ক্রয় করে থাকেন।টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে।এদের ক্রয় বিক্রয় জায়েজ।এতে কোন অসুবিধা নেই।

কিন্তু কোন কোরবানিদাতার জন্য নিজ কোরবানির কোন কিছু এবং কি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবেনা।

১০)কোরবানির পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়।তবে ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মত কাজের লোকদেরও খাওয়া্নো যাবে।

১১)কোরবানির পশু জবাই করে পা্রিশ্রমিক দেওয়া নেওয়া জায়েয।তবে কোরবানির পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয নয়।

১২)কোন কোন এলাকায় দারিদ্রদের মাঝে মোরগ কোরবানি করা প্রচলন আছে।এটি না জায়েয।কোরবানির দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়।তবে কোরবানির নিয়তে করা যাবেনা।

১৩)কোরবানির পশুর চামড়ার মালিক কোরবানিদাতা।সে ইচ্ছা করলে তা ব্যাবহারও করতে পারবে।সে যদি চামড়াটি বিক্রি করে দিতে চায় তবে বিক্রি না করে আস্ত দান করাই উত্তম।বিক্রি করলে এর মূল্যের হকদার হবে ফকির মিস্কিন,তথা যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত লোকজন।আর এদের ম্ধ্যে আত্মীয় স্বজন ও দ্বীন দারগণ অগ্রাধিকারযোগ্য।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here