সুস্মিতা তুমি ভালো থেকো!

সুস্মিতা,মনে আছে সেই স্মৃতির কথা?

হলুদ শাড়ি, লাল টিপ আর স্যান্ডেল পরে কাকে যেন খুঁজতে এসেছিলে বাহিরে।

হঠাৎ আমার দিকে নজর পড়তেই আবার ঘরে ফিরে গিয়েছিলে।

আবার কিছুক্ষণ পর তোমার মায়ের বকুনি খেয়ে ডাইনির মত আমার দিকে ভ্যাংচি মেরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলে।তোমাকে আমি কুটনি বুড়ি বলেছিলাম।

বিশ্বাস করো সুস্মু।সেদিন তোমাকে একদম ডাইনির মত মনে হয়নি।কুটনি আমি ইচ্ছা করে বলিনি।তোমাকে দেখে তোমার হলুদ শাড়ি আর লাল লিপস্টিক এর সৌন্দর্যের গভীরে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম।তখন কুটনি শব্দটা কথাচ্ছলে বলে ফেললেও আমি মজনুর মত তোমার প্রেমের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর থেকে আর তোমাকে দেখিনি।দেখিনি তোমার হরিণীর দু’টি চোখ,রাঙা দু’টি ঠোঁট, আলতা মাখা দুটি পাও আর দেখিনি।

দেখিনি তোমার ঠোঁটের কোণের চিরাচরিত এক চিলতি হাঁসি।অনেক অনুভব করি তোমার রাগান্বিত শাসন,মায়া জড়ানো সোহাগ।আমি শ্রদ্ধা করি তোমার বাবা-মা’র প্রতি তোমার অগাধ ভালোবাসাকে এবং তাদের অবাধ্য না হতে পারা।

রাস্তার দ্বারে শ্যামলতার মাঝে আমি অনুভব করার চেষ্টা করি তোমার অস্তিত্ব,কৃষ্ণচুড়া ফুলের রঙিন সৌন্দর্যে হারিয়ে গিয়ে আমি উপলব্ধি করার চেষ্টা করি তোমার মুগ্ধতা,কোকিলের সূরে আমি অনুধাবন করতে চাই তোমার সুরেলা কন্ঠ।

কিন্তু না।আমি কোথাও খুঁজে পাইনা।কোথাও উপলব্ধি করতে পারিনা আমার সুস্মিতাকে। সুস্মিতা কখনও অনুলিপি হয়না।সুস্মিতা কখনও দু’জন হয়না। সুস্মিতা শুধুই সুস্মিতা।

দূর থেকে যারে ভেসেছি ভালো,দেখেছি যার হাঁসি, শুনেছি যার কোকিলা সূর, দেখেছি যার কাজল কালো আঁখি।সেই সুস্মিতা যতদূরেই যাক,হৃদয়ের বেলকনিতে তার আনাগোনা রবে চিরকাল।

ভালো থেকো সুস্মিতা।কাছের ভালোবাসা থেকে দূরের ভালোবাসা অনেক মধুর।দূর থেকে তোমার সুখ দেখতে পাওয়া আমার স্বার্থক ভালোবাসা।ভালোবাসা শুধু ছুঁয়ে নয় দূর থেকেও অনুভব করা যায়।

ভালোবেসে ভালোবাসা বেঁধে রেখেছি অন্তরের গহীনে।পরলোক গমনের ক্ষনিক আগেও যদি কখনও কেউ তোমার অস্তিত্ব, তোমাে স্বীকৃতি, তোমার দাম্পত্যের প্রতিচিত্র প্রত্যাখ্যান করে। তবে ফিরে এসো এই পথহীন পথিকের হৃদয়ের ক্যানভাসে।

আমি থাকব তোমার অপেক্ষায়। আমি পথ চেয়ে অনন্তকাল পার করে দেব তোমার পদাঙ্ক দেখার অপেক্ষায়।

তুমি ভালো থেকো সুস্মিতা।ভালো থেকো তুমি।তোমার চয়নে,স্বপনে,শয়নে,চলনে-বলনে নিখিল জনমে তুমি ভালো থেকো।ভালো থেকো চিরকাল।

আমার খাঁটি ভালোবাসা টুকু রাখিও যতনে হৃদয়ের ছোট কোণে।

—ইব্রাহিম খলিল দিপু,
লেখক ও সমাজকর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here