আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।

আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।


আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত। আপনি কি জানেন বর্তমানে আমাদের দেশে কিডনিজনিত সমস্যা বেড়েই চলেছে? WHO (World Health Organization )এর 2017 সালের সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে কিডনি রোগ-জনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৩৩৬ বা ১.৯৫%। 

এই-সংখ্যা এখন আরো বেড়ে গিয়েছে কারণ কিডনি ফাউন্ডেশনের সূত্র অনুযায়ী ১,৬০,০০০রুগী আছেন যারা ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত।

এই সংখ্যা কিন্তু কম নয় এবং যতদিন যাচ্ছে বেড়েই চলেছে। এর জন্য আসলে দায়ী কে বা কি? এর জন্য দায়ী আসলে অনেক কিছু কেই করা যেতে পারে। যেমন পরিবেশ-গত পরিবর্তন,সেই সাথে খাদ্য ভেজাল আর আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন ।

আসলে কিডনি রোগের জন্য সক্রিয় ভূমিকা থেকে বেশি কাজ করে অসচেতনতা। সাথে পারিবারিক কিছু কারনও হতে পারে অনেক সময় কিডনি রোগের কারন।যে কারনেই কিডনি রোগ হয়ে থাকুক প্রথমেই আমাদের জানতে হবে তার লক্ষন  ও কারন গুলো কি কি?এরপর আমাদের বের করতে হবে এই রোগ থেকে প্রতিকারের উপায়। তবেই আমরা পারবো এই কিডনি রোগের সমস্যা থেকে কিছু টা নিজেদের রক্ষা করতে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া খুবইই জরুরী যে এই কিডনি আসলে কি? এর কাজ কি?তাহলেই সহজে বুঝতে পারবো আসলে কি কি কারনে রোগটি হয়।যখন আমরা তা জানতে পারবো তখন আমরা প্রতিকার গুলো সুন্দর ভাবে বুঝতে পারবো।আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।

কিডনি বা বৃক্ক কি?

কিডনি এর বাংলা আভিধানিক অর্থ হল বৃক্ক। সকল মেরুদণ্ডী প্রানীর শরীরে শীমের মত দেখতে দুইটি অঙ্গ থাকে। এই শীমের মত অঙ্গ দুইটিই হল কিডনি বা বৃক্ক ।

মানব দেহে কিডনি বা বৃক্ক এর অবস্থান 

বৈজ্ঞানিক ভাবে এর ব্যাখ্যা হল-কিডনি রেট্রোপেরিটোনিয়াল এর ডান ও বাম দিকে অবস্থিত। ডান কিডনি কিছুটা নিচে অবস্থিত কারন উপরে যকৃত আছে।আর বাম কিডনি কিছুটা উপরে।

সাধারণ ভাবে যা বোঝায় তা হল মানব দেহের কোমরের পিছনে পাঁজরের হাড়ের নিচে ডান দিকে এবং বাম দিকে অবস্থিত কিডনি।আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।

আপনার কিডনি সুস্থ আছে কিনা জানুন।

সাধারণত একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের কিডনি ১১ সেন্টিমিটার বা ৪.৩ইঞ্চি লম্বা হয়।যার প্রস্থ হল ৬সেমি আর পুরুত্ব হল ৩সেমি। কিডনির ওজন যদি জানতে চাই তাহলে পুরুষের বেলায় এর ওজন ১৫০-১৭০গ্রাম আর মহিলার বেলায় ১৩০-১৫০গ্রাম।

কিডনি কি-ভাবে কাজ করে?

সুস্থ এবং স্বাভাবিক একজন মানুষের কিডনি প্রতি মিনিটে অর্ধ কাপ পরিমাণ রক্ত হতে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি পরিশোধিত করে। অর্থাৎ কিডনি আমাদের শরীরের যত তরল বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি থাকে তা নিষ্কাশিত করে আমাদের সুস্থ রাখে। রক্ত পরিশোধনাগার ও বলা যেতে পারে কিডনিকে। আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।

কিডনি বা বৃক্কের কাজগুলো জেনে নিই

  • মূত্র তৈরি করে।
  • পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • আয়ন ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • রক্তের Ph সংরক্ষণ করে।
  • ইরাথ্রোপয়েটিন তৈরি করে।
  • ভিটামিন Dতৈরিতে ভূমিকা রাখে।

কিডনির কাজের ধাপগুলো কি কি?

কিডনির অবতল অংশ বা ভিতরের অংশে একটা ভাঁজ থাকে যার নাম হল হাইলাস (Hilus)।কিডনির ভিতরে যে একটা ধমনী বা arteryথাকে যার নাম রেনাল বা renal artery। 

কিডনি থেকে একটা রক্ত নালি বের হয়ে আসে যার নাম শিরা বা renal Vein। কিডনি থেকে মূত্র বাহিরে আসার জন্য যে নালী টা আছে তার নাম ইউরেটার বা Ureter যার অর্থ গবিণী।আপনার কিডনি সুস্থ আছে কি?জানুন বিস্তারিত।

কিডনিকে যদি দুভাগে বিভক্ত করা যায় তাহলে কিডনির দুটি অংশ দেখা যায় । বাইরের দিকে অংশকে বলে কর্টেক্স বা  Cortexআর ভিতরের অংশকে বলে মেডুলা বা Medulla। মেডুলার ভিতরে কিছু পিরামিড এর আকৃতি অংশ পাওয়া যায়।এই পিরামিড কে বলা হয় রেনাল পিরামিড। এই রেনাল পিরামিড এর মাঝে থাকে কর্টেক্স এর কিছু অংশ থাকে যার নাম রেনাল কলাম অফ বার্টিন। 

রেনাল পিরামিডের প্যাপিলা বা চুড়া থেকে বের হয় মাইনর ক্যালিক্স।যা একসঙ্গে একটি বড় মেজর ক্যালিক্স। যা একসঙ্গে মিলিত হয়ে তৈরি করে পেলভিস। পেলভিস গিয়ে মিলিত হয় ইউরেটার সাথে। আর এইভাবেই কিডনি থেকে মূত্র বের হয়। কিডনির মাথায় থাকে একটি গ্রন্থী যার নাম এড্রেনাল।

নীচের চিত্র থেকে যা আরো বোঝা যাবে

আপনার কিডনি সুস্থ আছে কিনা জানুন।

নেফ্রন হল কিডনির গঠনগত কাজের একক যা কিনা মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা যায় । এই নেফ্রন এর রয়েছে দুটি অংশ যার নাম নীচের চিত্র থেকে যা আরো বোঝা যাবে।

আপনার কিডনি সুস্থ আছে কিনা জানুন।

 ১) রেনাল কারপাসল বা মেলপিজিওন বডি

এই রেনাল কারপসল এর দুইটা অংশ আছে যার নাম হল

  • Glomerulus বা গ্লোমেরুলাস।
  • Bowman’s capsule বা বৌমান ক্যাপসুল।

 ২) রেনাল টিবিউল বা বৃক্কের নালিকা

রেনাল টিবিউলের চারটি অংশ রয়েছে যার নাম হল

  • প্রক্সিমাল কনভ্লুটেড টিবিউল বা PCT (কাছের পেঁচানো নালিকা)
  • লুপ অব হিনলি
  • ডিসটাল কনভ্লুটেড টিবিউল(দূরের পেঁচানো নালিকা)
  • কালেকটিভ টিবিউল

প্রথমে এই এফারেন্ট আরটেরিও থেকে গ্লুমেরুলাস এ রক্ত আসে এবং একগুচ্ছ কৌশিক জালিকা থেকে রক্ত ইটারেন্ট আরটেরিও থেকে বের হয়ে যায় । এখানে আমাদের রক্ত ফিল্টার হয় গ্লুমেরুলাস আর ভিসেলার লেয়ারে।ভিসেলার লেয়ার এ থাকে পোডোসাইট বা Podocyteযা কিনা এই অতি-প্রয়োজনীয় কাজ সম্পূর্ণ করে।

ফিল্টার এরপর রক্তের যে কোষ আর প্রোটিন থাকে তা থেকে যায় ভিসেলার লেয়ার এর উপরে। বাকি যে পানীয় বর্জ্য থাকে তা প্রতিমিনিটে ১২৫ কিউবিক সেমি তৈরি হয়। এই বর্জ্য এরমধ্যে যে অংশ গুলি আমাদের প্রয়োজন তা আবার বৃক্ক বের করে শরীরে পৌছে দিচ্ছে পেরিটিবিউলার ক্যাপিলারি থেকে। এরপর বাকি যে অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের হয়ে যায় লুপ অফ হেনলি থেকে কালেকটিভ টিবিউল থেকে মাইনর ক্যালিক্স হয়ে মেজর ক্যালিক্স ও পেলভিস থেকে বের হয়ে যায় ।

কিডনি রোগের কারন কি কি হতে পারে?

আমরা কিডনি এর বিশদ কাজের বিবরণ থেকে এইটা খুব সহজেই বুঝতে পারি যে এই কাজের যেকোন একটা দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্থ হলে ফিল্টারেশন বা পরিশোধনের সমস্যা হয় ।আর এই ফিল্টরেশনের সমস্যা হলে কিডনি রোগের উপসর্গ দেখা যায় ।

কিডনি রোগ সাধারণত দুভাগে বিভক্ত যেমন-

  • একুইট কিডনি ডিজিজ (AKD) যা হটাৎ করে সংঘটিত হয়।
  • ক্রনিক কিডনি ডিজিজ(CKD) যা ধীরে ধীরে সংঘটিত হয়।

 একুইট কিডনি রোগের (AKD)কারনসমুহ

হটাৎ করে সংঘটিত হওয়া কিডনি রোগের আসলে অনেক কারন হতে পারে।যার মুল কারন হতে পারে পানিশূন্যতা।তাছাড়াও আরো কিছু কারন আছে যা নিচে দেওয়া হল।

  • একুইট টেবুলার নিউরোসিস 

যা কিনা আপনার শরীরের তরল বর্জ্য ,অপ্রয়োজনীয় লবন বা আয়ন বের করে তা করতে অক্ষম হয়ে যায় ।

  • পানিশূন্যতা

যখন আপনি কম পরিমাণ পানি পান করবেন যা কিনা আপনার ওজনের থেকেও অনেক কম সেই সাথে অতিরিক্ত গরমের সময় আপনার পানিশূন্যতা হতে পারে।যা থেকে এই রোগের উৎপত্তি হতে পারে।

  • কোন ওষুধের প্বার্শপ্রতিক্রায়ার প্রভাব 

দীর্ঘদিন ধরে কোন ঔষদ গ্রহন করলে যেমন ব্যাথাজনিত কারনে বা ডায়াবেটিসের জন্য তাহলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • গ্লুমেরুলাস এ কোন সমস্যা হলে

গ্লুমেরুলাস এ যখন ফিল্টরেশনের কাজ চলে তখন গ্লুমেরুলাস কোনও কারনে তা করতে না পারলে এই রোগ হতে পারে।

  • মূত্রথলিতে পাথর হলে বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে

মূত্রথলিতে পাথর হলে অথবা মূত্রনালিতে রক্ত জমাট বা ব্লকেজ বা বন্ধ হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা যায় ।

ক্রনিক কিডনি রোগ (CKD)এর কারনসমুহ 

ক্রনিক কিডনি রোগ বা ধীরে ধীরে যে কিডনি রোগ হয় তার অনেক কারন আছে ।যারমধ্যে প্রধান বিষয় গুলো আলোচনা করা হল

  • গ্লুমেরুলনিফ্রিটিস 

আগেই বলা হয়েছে যে গ্লুমেরুলাস হল কিডনি ফিল্টার করতে ভুমিকা রাখে।সুতরাং যখন এই গ্লুমেরুলাস এ কোনো কারনে সমস্যা হবে তখন গ্লুমেরুলাস রক্ত ফিল্টার করা বন্ধ করে দিবে।ফলে মারাত্মক আমাদের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • পলিসিসটিক

এই ধরনের সমস্যা তে দেখা যায় কিডনির দেয়ালে বা টিস্যুতে কোন সিস্ট থাকে যা কিনা কিডনির স্বাভাবিক কাজকে ব্যহত করে।

  • মালফরমেশন বা অনুপযোগী গঠন

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় যদি শিশুর কিডনি ঠিক মত গঠন না হয়।তাহলে এই সমস্যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে।

  • লুপাস নিফ্রিটিস

এই ধরনের সমস্যা সাধারণত পারিবারিক সুত্র থেকে আসে। এই লুপাস নিফ্রিটিস আপনার কিডনির রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করে।

  • পাথর

অনেক সময় মূত্রথলিতে পাথর হলে তখন বৃক্ক তার স্বাভাবিক কাজ করতে বাধাগ্রস্থ হয় এবং কিডনি তখন কাজকরতে পারেনা।

  • উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চরক্ত চাপ সাধারণত কভ বেশি সবার মধ্যেই বর্তমানে লক্ষ্য করা যায় ।ক্রনিক  কিডনি রোগের আরেকটি কারন হল উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চরক্তচাপের কারনে বার বার ওষুধ খাওয়ার ফলে কিডনিতে তা একটি প্বার্শপ্রতিক্রায়ার তৈরি  করে।

কিডনি রোগের লক্ষন কি কি

এবার তাহলে জেনে নিই আসলে কিডনি রোগ হয়েছে কিনা তা কিভাবে বুঝবো?নিচের লক্ষনগুলো দেখা দিলে আপনি বুঝবেন আপনার অথবা পাশের জনের, যার মধ্যেই এগুলো দেখবেন তার কিডনি রোগের সমস্যা হতে পারে।

  • ঘুম থেকে উঠে চোখ ফোলা ফোলা দেখা যায় ।
  • মুখমণ্ডল, হাত ও পা ফুলে যায় ।
  • দুর্বলতা অনুভব করা বা ক্ষুধা না লাগা।
  • বমি বমি অনুভব করা।
  • বার বার প্রসাব বেগ আসা কিন্তু না হওয়া ।
  • রাতে বার বার প্রসাব বেগ আসা।
  • অল্প বয়সে উচ্চ রক্ত চাপ লক্ষন।
  • অল্পতেই ক্লান্ত অনুভত হওয়া ।
  • ফ্যাকাসে বর্ন হয়ে যাওয়া ।
  • প্রসাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া।
  • পা ও কোমরে ব্যাথা অনুভব করা।
  • প্রসাবে পুজ বা রক্ত এর উপস্থিত থাকা।

আরও পড়ুনঃ পায়ের পেশিতে টান পড়লে করনীয় কি? https://sonalikantha.com/পায়ের-পেশিতে-টান-পড়লে-কি-ক/

কিভাবে কিডনি রোগ প্রতিকার করা যায়? 

কিডনি রোগ তা একুইট হোক বা ক্রনিক হলে তার চিকিৎসা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত। সাধারণত কিডনি যখন দুইটাই অকেজো হয়ে যায় তখন কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়ে থাকে।এর অর্থ হল আরেকজনের কিডনি শরীরে স্থাপন করা হয় ।

এই অবস্থায় যাতে কাউকে না আসতে হয় সেইজন্য কিছু কিছু কাজ আসলে আমরা আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস করে নিতে পারি। তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই প্রতিকার গুলো কি কি?

  • রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ 

যখন আপনি শর্করা জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করবেন গ্লুকোজ জাতীয় খাবার তখন আপনার ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।সেইসাথে কিডনি রোগের ঝুকিও কমবে।

  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ 

আপনার উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।এইজন্য আপধি নিয়মিত পরিমানে কম চর্বিযুক্ত খাবার খাবেন।হাঁটাহাটি ও ব্যায়াম করবেন ।এতে আপনার উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আপনার কিডনিও সুস্থ থাকবে।

  • প্রয়োজন অনুযায়ী মূত্রত্যাগ

যখন আপনার প্রসাবের বেগ আসবে আপনি তা ধরে রাখবেন না।প্রসাব ধরে রাখার ফলে এর যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তা কিডনিতে ইনফেকশনের তৈরি করে।যার কারনে আপনার কিডনিরোগ দেখা দিতে পারে। তাই সময় মত মূত্রত্যাগের অভ্যাস রাখতে হবে।

  • পরিমানমত পানি পান করা

আমরা জানি কিডনি রক্ত পরিশোধিত করে আর শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় আয়ন যেমন সোডিয়াম আরো ক্ষতিকারক তরল পদার্থ বের করে দেয়।প্রয়োজনীয় পানি না পেলে এইকাজ করতে কিডনিকে অনেক বেশি শক্তি অপচয় করতে হয়।একপর্যায়ে তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।তাই আপনি প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিনলিটার পানি খাবেন। 

  • ধুমপান বা মদ্যপান না করা

ধুমপান বেশি করলে তা রক্তের গতি প্রবাহ কমিয়ে কিডনির দিকে যেতে।এর ফলে কিডনি তার কাজ করতে অক্ষম হতে থাকে ধীরে ধীরে। মদ্যপানের বেলায় দেখা যায় তা উচ্চরক্তচাপের তৈরি করে যা কিনা কিডনি রোগের কারন হিসেবে কাজ করে।

  • ব্যাথানাশক বা পেইন কিলার কম খাওয়া 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা একটু ব্যথা অনুভব হলেই পেইন কিলার সেবন করেন।যা কিনা একেবারেই অনুচিত।এই অতিরিক্ত ব্যথানাশক পরবর্তীতে কিডনি রোগের কারন হিসেবে দেখাদেয়।

  • পরিমিত ঘুম

আমরা জানি একজন পূর্নবয়স্ক মানুষের অন্তত আট ঘন্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু বর্তমানে তাদেখা যায় অনেকেই মেনে চলেননা।ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সাথে কিডনি সমস্যাও দেখাযায়।তাই পরিমিত ঘুমের অভ্যাস করতে হবে।

  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস 

আপনাকে সঠিক মাত্রায় পরিমিত খাদ্য গ্রহন করতে হবে।অতিরিক্ত চর্বি , প্রোটিন বা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য আপনার কিডনির ফিল্টারেশন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। বেশি বেশি ফলমূল এবং পানীয় জাতীয় খাদ্য আপনাকে সুস্থ রাখবে ফলে আপনার কিডনিও সুস্থ থাকবে। এইজন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি খাদ্যতালিকা তৈরি করে তা অনুসরণ করা সবচাইতে ভাল উপায় ।এতে আপনার ওজনো নিয়ন্ত্রণে থাকব আপনার কিডনিও ভাল থাকবে।

পরিশেষে 

কিডনি বা বৃক্ক আমাদের শরীরের এমন দুইটি অংশ যা বিকল হয়ে গেলে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পরিনতি নাই।যেকোনো একটা অকেজো হলে আরেকটি আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।কিন্তু যখন দুটিই অকেজো হয়ে যায় তখন তা প্রতিস্থাপন করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকে না।

তাই অবশ্যই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস এর দিকে নজর রাখতে হবে। সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করতে হবে। আর অবশ্যইনজর রাখতে হবে আমাদের কিডনি রোগের লক্ষনগুলোর দিকে।যদি উপরের বর্নিত লক্ষন গুলো দেখতে পান নিজের মাঝে বা পাশের মানুষের মাঝে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

 সর্বশেষে আপনি সচেতন হলে অবশ্যই পারবেন সঠিক ভাবে কিডনি রোগ প্রতিহত করতে।তাই এখন থেকেই সচেতন হোন, নিজে সুস্থ থাকুন কারন স্বাস্থ্য ই সকল সুখের মুল। ইংরেজি তে বলে ‘Health is wealth’.

লিখেছেন তানজিলা ফারজানা তানি

আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা। https://www.ekushey-tv.com/কিডনী-রোগের-লক্ষণ-ও-চিকিৎসা/26543

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here