ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে। বিদেশ যেতে চান? পাসপোর্ট করতে চান? কিন্তু দালাল কে ধরে টাকা দিয়েও পাসপোর্ট সময় মত পাচ্ছেন না? আর নয় এই হয়রানি আর নয় দালাল কে টাকা দেওয়া ।এখন আপনি নিজেই বানাতে পারবেন আপনার পাসপোর্ট তাও ঘরে বসেই ।

 গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার শুরু করেছেন ePassport। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষার দিক থেকে এই ePassport সবচাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য।

সাউথ এশিয়ার মধ্যে ১ নম্বর এবং বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বারের মত ePassport পদ্ধতি শুরু করেছে ।বর্তমানে যা শুধুমাত্র রাজধানী কেন্দ্রিক থাকবে। উত্তরা, আগারগাও এবং যাত্রাবাড়ি এই তিন পাসপোর্ট অফিস থেকে নিতে পারবেন আপনার ePassport ।পরবর্তীতে সমস্ত দেশের পাসপোর্ট অফিসেই এই পদ্ধতি শুরু হবে।

জার্মান পদ্ধতিতে তৈরি এই ePassport তৈরি হবে বাংলাদেশেই।বর্তমানে এই ePassport এরজন্য আপনি ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন।খুব সহজেই। সমস্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে কোন রকম হয়রানি ও বার্তি খরচ ছাড়াই আপনি পেয়ে যাবেন ePassport।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

ই-পাসপোর্ট বা epassport  করার জন্য আপনাকে কিছু পর্যায়-ক্রমিক ধাপ সমূহ অনুসরণ করতে হবে।

কি সেই ধাপ সমূহ?

আপনি ঘরে বসে করতে পারবেন epassport ।যার জন্য প্রয়োজন পড়বে যে বিষয় গুলো তা নিচে দেওয়া হল

  • ইন্টারনেট কানেকশন।
  • ই-মেইল আইডি।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র(NID)। 
  • জন্ম-নিবন্ধন সার্টিফিকেট। 

উপরের এই বিষয় গুলো যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি পরবর্তী যে প্রক্রিয়া তার জন্য কাজ শুরু করতে পারবেন । 

ই-পাসপোর্ট এর জন্য প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তাহল ই-পাসপোর্ট আবেদন করার ওয়েবসাইট এ যেতে হবে। 

ওয়েবসাইট লিংক হল: www.epassport.gov.bd

এরপর কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।সেই ধাপ গুলো হল

  • প্রথম ধাপ: একাউন্ট একটিভেশন বা একাউন্ট সচলকরন।
  • দ্বিতীয় ধাপ: ইমেইল ভেরিফিকেশন ।
  • তৃতীয় ধাপ: এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ।
  • চতুর্থ ধাপ: পেমেন্ট পদ্ধতি 
  • পঞ্চম ধাপ: বায়োমেট্রিক নমুনা গ্রহন।
  •  ষষ্ঠ ধাপ: আপনার ই-পাসপোর্ট ।

আরও পড়ুনঃ https://sonalikantha.com/আয়-করুন-আপনার-মোবাইল-দিয়ে/

ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।কি-ভাবে এই ধাপ গুলো অনুসরণ করবেন?

ই-পাসপোর্টের জন্য প্রথমে যে ধাপ অনুসরণ করতে হবে তার বিবরণ নিচে দেওয়াহল।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

প্রথম ধাপ: একাউন্ট একটিভেশন বা একাউন্ট সচলকরন

ই-পাসপোর্টের সাইটে গিয়ে Apply online এই অপশনে ক্লিক করতে হবে।এরপর একটি পেইজ আসবে নিচে সেই পেইজের ইমেজ দেওয়াহল

এইখানে প্রথমে লিখতে Yes এ ক্লিক করতে হবে। তবে আপনি যদি বাংলাদেশের বাইরে থেকে epassport এরজন্য এপ্লাই করেন তাহলে Noএ ক্লিক করতে হবে।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

এরপর বর্তমান ঠিকানা এর জায়গা জেলা নির্বাচন করতে হবে।সেই-সঙ্গে থানা। এরপর Continue এ ক্লিক করতে হবে।

এরপর Step 2লেখা এই পর্যায়ে এসে ইমেইল এর ঠিকানা বা এড্রেস দিতে হবে। Continue এ ক্লিক করতে হবে।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

পরবতী পেইজে আসবে এই রকম পাসওয়ার্ড তৈরির জন্য ।নিচে ইমেজ টি লক্ষ্য করুন।

Step 3 লেখা এইখানে পাসওয়ার্ড এবং নিচে জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী নাম দিতে হবে।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

নিজের নাম দিতে হবে Given nameএর জায়গায় এবং পারিবারিক নাম দিতে হবে Surname এর জায়গায় । আপনার একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে Contact Information এ এবং Create account এ ক্লিক করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ইমেইল ভেরিফিকেশন 

এরপর আসবে Step 4লেখা পেইজ যেখানে ই-পাসপোর্ট একাউন্ট ভেরিফিকেশন এরজন্য ইমেইল যাবে এই বিষয়ে জানানো হবে। অপেক্ষা করতে হবে।যখন ইমেইল আসবে তখন ঐ ইমেইল এ ক্লিক করে একটা একাউন্ট্ ভেরিফিকেশন লিংক থাকবে।ঐখানে ক্লিক করতে হবে। এরপর Enter online registration portalনামে একটা পেইজ আসবে।।ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

যেখানে আপনার ইমেইল এড্রেস ও যে পাসওয়ার্ড দিয়ে ছিলেন দিতে হবে।এবং Sign in এ ক্লিক করে পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ

এরপর আসবে আবেদন পত্র পূরণের পর্যায়।এই পর্যায়ে আপনি আপনার সকল তথ্য দিবেন। চাইলে ডান দিকে বাংলা তে ক্লিক করে বাংলা ভাষা তে লিখতে পারবেন ।তবে সেক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট তথ্য সব বাংলা তে হবে।

এইখানে আপনার নাম,পেশা,লিংজ্ঞ, ধর্ম,জন্ম তারিখ,জাতীয়তা এবং আগে আর পাসপোর্ট আছে কি না এই তথ্য দিয়ে পূরন করতে হবে।  জাতীয় পরিচয় পত্র এর নম্বর দিতে হবে।save and continue এ ক্লিক করে পরবর্তী পেইজে যেতে হবে।

পরের পেইজে জিজ্ঞাসা করা হবে আপনার আগে কোনও পাসপোর্ট ছিল কিনা। না থাকলে Noতে ক্লিক করে Save and continue এ ক্লিক করতে হবে।

এরপর পর আপনার ঠিকানা এর সকল তথ্য দিতে হবে।এইপেইজে আপনার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। রিজিওনাল পাসপোর্ট  অফিস (RPO)এ ক্লিক করতে হবে।Save and continue এ ক্লিক করে পরবতী পেইজে যেতে হবে।

এই পেইজে থাকবে Parental information অর্থাৎ আপনার পিতামাতার তথ্য দিতে হবে। বাবার নাম,পেশা,NID নম্বর দিতে হবে।

মাতার নাম,পেশা NIDনম্বর দিতে হবে। Save and continue এ ক্লিক করে পরবর্তী পেইজে যাবেন।

এই পেইজের নাম Spouse information অর্থাৎ আপনি বিবাহিত হলে তার তথ্য এইখানে দিতে হবে।

এরপর জরুরি যোগাযোগের জন্য Emergency contact আপনার কাছের একজন এর তথ্য এবং নম্বর দিতে হবে।

চতুর্থ ধাপ: পেমেন্ট পদ্ধতি 

নিচের দেওয়া ছকের থেকে জেনে নিতে পারবেন পেমেন্ট বা টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি ।যেকোনো একটা পদ্ধতি বেছে নিয়ে ক্লিক করতে হবে। ই-পাসপোর্ট বানান এখন ঘরে বসে।

পাসপোর্ট পেইজ/পাতাভ্যালিডিটি/মেয়াদ পাসপোর্ট প্রাইস/মূল্য জরুরি বা এক্সেপ্রস মূল্য 
৪৮ পাতা০৫ বছর ৪০২৫টাকা৬৩২৫টাকা
৪৮পাতা১০ বছর৫৭৫০টাকা৮০৫০ টাকা
৬৪ পাতা১০ বছর৮০৫০ টাকা ১০৩৫০টাকা
৬৪ পাতা০৫ বছর ৬৩২৫ টাকা ৮৬২৫টাকা

এরপর আপনার আবেদন পত্রটি ভাল করে মিলিয়ে নিবেন সব তথ্য সঠিক ভাবে দিয়ে ছিলেন কিনা।এরপর Confirme and proceed to payment এ ক্লিক করবেন । আপনি যদি অনলাইন পেমেন্ট করতে চান তাহলে অনলাইন পেমেন্ট এ ক্লিক করবেন ।নতুবা অফলাইন পেমেন্ট এ ক্লিক করে  ব্যাঙ্ক এ জমা দিবেন।

পঞ্চম ধাপ: বায়োমেট্রিক নমুনা গ্রহন

এইবার আপনাকে সরাসরি যেতে হবে পার্সপোট অফিস। আপনার দুই হাতের আংগুলের ছাপ,আপনার চোখের রেটিনার ছবি এবং আপনার ছবি দিতে। এরজন্য আপনাকে একটি সময় ঠিক করে নিতে হবে।শিডিউল মানে নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ সাথে সময় নিতে হবে।

আপনার আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করে নিতে হবে এবং সাথে পেমেন্ট এর কপি নিয়ে যেতে হবে।সেই সাথে আরো লাগবে নিচের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র

  • NID এর ফটোকপি
  • Birth certificate এর ফটোকপি 
  • নিকাহনামা 
  • আগের পাসপোর্ট থাকলে তার ফটোকপি 
  • ছাড়পত্র এর মুল কপি
  • সরকারি চাকুরিজীবী হলে সরকারি আদেশের কপি
  • অবসরপ্রাপ্ত হলে অবসর গ্রহনের প্রমাণ পত্র।
  • প্রাক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর মুলকপি।

 ষষ্ঠ ধাপ: আপনার ই-পাসপোর্ট 

এই ধাপ হল আপনার কাংখিত পর্যায়- এইখানে আপনার পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার মোবাইল নম্বরে এবং আপনার ইমেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপনি পাসপোর্ট অফিস এ গিয়ে আপনা ইপাসপোর্ট সংগ্রহ করবেন ।

কেমন হবে আপনার ePassport? 

  • পলিকার্বোনেট  সুরক্ষিত বলয় বা লেয়ার
  • তথ্য বা ডাটাপেইজ 
  • ফোটোগ্রাফ 
  • বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত চিপ
  • লেমিনেটেড সুরক্ষিত লেয়ার
  • কনট্যাক্টলেস মোডিউল 
  • ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ।

কিভাবে কাজ করবে E-gate ?

যখন আপনি বিমানবন্দর যাবেন আপনার ইমিগ্রেশন এরজন্য তখন আপনাকে এই Egateএর মুখোমুখি হতে। 

ePassport টি আপনি এই গেইটের বুথ এ প্রবেশ করাবেন।আপনার সকল তথ্য পর্যালোচনা করবে গেইট খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ।

এরপর আপনি পরবর্তী গেইটে যাবেন যেখানে আপনার মুখমণ্ডলের ছাপ পরীক্ষা করা হবে।

সবকিছু আপনার সঠিক হলে তবেই আপনি ইমিগ্রেশন পার করে যেতে পারবেন ।এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া টি হতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ।

পরিশেষে 

বাংলাদেশ কে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এই  ePassort অনেক বড় একটি ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো সমুন্নত করতে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ePassport  এর আসলেই কোনো তুলনা নাই।

খুব শিঘ্রই সারা দেশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এই সুবিধা শুরু হতে যাচ্ছে । তাহলে চলুন ডিজিটাল বাংলাদেশ কে আরো সামনে এগিয়ে নিতে এখনই আমরা ePassport  নিতে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি ।

আর নয় দালালকে টাকা দেওয়া 

আর নয় পাসপোর্ট অফিসের হয়রানি 

এখন আপনি নিজেই করুন নিজের পাসপোর্ট।

লিখেছেনে তানজিলা ফারজানা তানি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here