এক অসহায় বাবার স্বপ্ন ভঙ্গের করুন কাহিনী।

এক অসহায় বাবার স্বপ্ন ভঙ্গের করুন কাহিনী
ছবিঃ সংগৃহীত

এক অসহায় বাবার স্বপ্ন ভঙ্গের করুন কাহিনী। পরিবারের বড় ছেলে রাহাত।এবং আদরেরও বটে।রাহাতের বাবা একটি প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক।রাহাতের মা হাসনাত আরা বানু একজন গৃহিনী।রাহাতের বাবা মোজাফফর মাহমুদ সাহেব এর দুই সন্তান।বড় সন্তান ছেলে রাহাত মাহমুদ এবং ছোট সন্তান মেয়ে তাবাসসুম মাহমুদ।মোজাফফর সাহেবের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে রাহাত মাহমুদকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন।ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে বড় ব্যাক্তিত্বের মানুষ ‍হিসেবে গড়তে চান।

মা হাসনাত আরা বানুরও বেশ আদরের সন্তান রাহাত।মা না খেয়ে হললেও সন্তানকে খাওয়ান।রাহাত সদ্য এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে।রাহাতের ছোট বোন তাবাসসুম এবার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।ছাত্র হিসেবে অনেক মেধাবী রাহাত।মেধাবী বলেই বাবা রাহাত সাহেবের স্বপ্ন ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবে।

ইতোমধ্যেই রাহাতের এস.এস.সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ পেয়েছে।রাহাত পরীক্ষায় গোল্ডেন এ(+) প্লাস পেয়ে পাশ করেছে।ছেলের ফলাফলে বাবা মোজাফফর সাহেব অনেক খুশি।পাড়া মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করছেন তিনি।ছেলের ভালো ফলাফলে মোজাফফর সাহেবের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার মাত্রা আরও বেড়ে গেলো।তিনি রাহাতকে শহরের ভালো কোন স্বনামধন্য কলেজে ভর্তি করানোর স্বিদ্ধান্ত নিলেন।

রাহাত এখন কোন এক শহরের ঐত্যিবাহী কলেজে ভর্তি হওয়ার সৈাভাগ্য হলো।রাহাতের শহরে পড়াশোনা, থাকা খাওয়ার খরচ যোগাতে বেগ পেতে হলেও তিনি সেই অসুবিধাকে ছেলের ভবিষ্যতের জন্য আনন্দের সাথে গ্রহণ করে নেন।সম্প্রতি রাহাত শহরে পড়তে যাওয়ায় তার বাবার খরচের পরিমাণ বেড়ে যায়।এদিকে পরিবারের খরচ তো আছেই।তাই রাহতের বাবা মোজাফফর সাহেব অতিরিক্ত কিছু টিউশনি হাতে নিলো।একটু কষ্ট হলেও সন্তানদের সুখের জন্য সব বাবাদের মত রাহতের বাবাও একটু কষ্ট মেনে নিলো হাঁসি মুখে।

ইতোমধ্যেই রাহাত  এর এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে।রাহাত এবারও খুব ভোলো ফলাফল করেছে।রাহাত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আবারও সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।রাহাতের বাবা রীতিমত খুঁশিতে আত্মহারা।মোজাফফর সাহেবের সকল দুঃখ যেন পানি হয়ে গেলো।তার খুশির অন্ত নেই।দুনিয়ার সকল মা বাবাই সন্তানের সাফল্যে এরকম খুঁশি হন।রাহতের মা বাবাও ব্যাতিক্রম নয়।

রাহাতরে বাবা মোজাফফর মাহমুদ সাহেবের আশা ছেলেকে ডাক্তার বানাবে।রাহাতও দেশের খ্যাতনামা এক মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলো।রাহাতের বাবা মনে মনে অনেক গর্ব করে বেড়াচ্ছে তার ছেলে একদিন বড় ডাক্তার হবে।তার স্বপ্ন পূরণ করবে।

রাহাতের বাবা মোজাফফর সাহেবের শরীরটা ইদানিং ভালো নেই।তিনি একবার হার্ট এ্যাটাক করেছেন।সুস্থ হয়ে আবার শিক্ষকতা শুরু করলেন।এদিকে রাহাতের বাবা জনাব মোজাফফর মাহমুদের শুভাকাঙখীরা তার শরীরের অবস্থা খারাপ দেখে বলতে লাগলেন, ‘‘একা একা আর কত সংসারের গ্লানি টানবেন?ছেলেকে বলেন পার্ট টাইম চাকরি করে আপনাকে সাফোর্ট দিতে।এখনও একটা মেয়ে বিয়ের বাকি তার আগেই আপনার কিছু হয়ে গেলে মেয়েটাকে দেখবে কে?’’ কিন্ত মোফাফফর সাহেব ছেলেকে কখনো বুঝতে দেননা অসুবিধার কথা ।বরং তিনি রাহাতকে ভালোভাবে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন।তিনি কখনও তার ছেলেকে বা আত্মীয় স্বজনকে বুঝতে দেন না তিনি লবন আনতে তেল শুকিয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় আছেন।

মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট রাহাত দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পন করলো।ইদানিং রাহাতের সাথে তার সহপাঠি সায়মার খুব ভালো্ বন্ধুত্ব। রাহাত প্রায় সময় সায়মার সাথে আড্ডা দেয়।দু’জন দু’জনের ভালো বন্ধু।বন্ধুত্ব থেকে রাহাত সায়মাকে মনে মনে ভিষণ ভালোবেসে ফেলেছে।কিন্তু সে তাকে ভালোবাসার কথা বলতে পারতেছেনা।

একদিন রাহাত সায়মা’কে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে গেলো।খাওয়ার এক মুহুর্তে রাহাত সায়ামা’কে তার ভালোবাসার কথা বলে দিলো।সায়মা কিছুই বলল না।সে রেস্টুরেন্ট থেকে উঠে সোজা বাসায় চলে গেলো। এদিকে রাহাত বেশ স্নায়ুচাপে আছে।সে মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করতেছে, বন্ধুত্বের মাঝে ভালোবাসার কথা বলা টা ভূল হয়ে গেলো না তো?রাহাত ভাবছে সায়মা মাইন্ড করেনি তো?এদিকে সায়মার ফোনের সুইচড অফ।রাহাত মনে মনে স্বি্দ্ধান্ত নিলো, আগামীকাল সায়মার সাথে দেখা করে তার কাছে ক্ষমা চাইবে।

এগুলো ভাবতে ভাবতে রাহাত না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো্।সকালে বাবার ফোনে ঘুম ভাঙ্গলো রাহাতের।কিন্তু সে বাবাকে পরে কথা বলবে বলে ফোন কেটে দিলো।বাবার ফোন কাটার পর রাহাত দেখলো, সায়মা তাকে টেক্সট করেছে।লিখেছে, ‘‘এই ছেলে, আমার মনের কথা টা তুমি বলে দিলে কেন?’’

বাবার ফোন কেটে ‍দিয়েছিলো রাহাত ঘুমাবে বলে।কিন্তু সায়মার টেক্সট পেয়ে রাহাত আর ঘুমায় না।খুঁশিতে রাহাতের আর ঘুম আসেনা।

ক্রমান্বয়ে রাহাত ও সায়মার প্রেমের সম্পর্ক গভীর হলো।সায়মা ও রাহাত দু’জনই এমবিবিএস শেষ করেছে।সায়মার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে।কিন্তু সায়মা রাহাতকে ছাড়া বিয়ে করবেনা।সায়মা তার শিল্পপতি বাবাকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করায় রাহাতকে বিয়ে করার ব্যাপারে।রাহাত তার এতদিনের ভালোবাসা কোনভাবেই জলাঞ্ঝলী দিতে পারলো না।তাই রাহাত তার বাবা মা’কে না জানিয়ে সায়মা’কে বিয়ে করে ফেলল।

রাহাত এখন এমবিবিএস ডাক্তার।সে বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করেছে।রাহতের বাবা খুঁশি এবার তার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো।ইতোমধ্যেই রাহাতের ছোট বোন তাবাসসুম এইচএসসি পাশ করেছে।রাহাতের বাবা এবার ছেলেকে বিয়ে করানোর কথা বলল।রাহাত তার বিরে কথা তার বাবাকে জানালে, তার বাবা মোজাফফর মাহমুদ সাহেব এর উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে মাটিতে পড়লো।মোজাফফর সাহেব ছেলের এমন স্বীদ্ধান্তের জন্য কখনোই অপেক্ষা করেননি।

রাহাত তার পেশাগত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।বছরে দু’একবার বার বাবা মা’র সাথে দেখা করে যতে। বিগত এক বছর রাহাত আর বড়িতে আসেনা। বাবা ফোন দিলে বলে, কাজের অনেক চাপ।এদিকে রাহাতের স্ত্রী সায়মাও চায় না রাহাত গ্রামের বাড়িতে আসা যাওয়া করুক।এক অসহায় বাবার স্বপ্ন ভঙ্গের করুন কাহিনী।

আরও পড়ুনঃ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং আমাদের করণীয়্ http://www.sonalikantha.com//সমাজের-নৈতিক-অবক্ষয়-এবং/

এতদিনের রক্ত মাংস একত্রিত করে স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশায় মোজাফফর  মাহমুদ সাহেব অপেক্ষায় ছিলেন ছেলেকে নিজের সামনে রাখবেন, গর্ব করবেন।কিন্তু আজ মোজাফফর সাহব আজ স্বপ্ন ভঙ্গের করুন ও দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে আজ মুত্যুর পথযাত্রী।মেয়েটিকেও ছেলের মত উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে গড়তে পারলেন না।নিজের শরীরে আর মানছেনা বলে।মেয়ে তাবাসসুম মাহমুদকে বিয়ে দিয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর কামনা করছেন জনাব মোজাফফর মাহমুদ।যেন মুত্যু ছাড়া আর কোন ঔষধই মোজাফফর সাহেবের যন্ত্রণাগুলোকে তাড়াতে পারবেনা।

প্রিয় পাঠক, এই গল্পটি একান্তই আমার নিজস্ব জ্ঞান থেকে নেওয়া।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষিত ছেল – মেয়ের বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে বা বাড়িতে একা রেখে চলে যাওয়া, বিনা চিকৎসায় বিত্তশালী ছেলের মা বাবা মৃত্যু পথযাত্রী হওয়ার খবর পড়েছি।সেই খবর গুলো পড়ে বিবেকের রক্তক্ষরণ থেকে এই গল্পটি লিখলাম।এই কাল্পনিক গল্পের মাধ্যমে কোর ডিপার্টমেন্ট বা কোন জাতি গোষ্ঠী’কে বা কোন শ্রেণীর মানুষকে ছোট বা হেয় প্রতিপন্ন করা আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য নয়।সবাই ভালো থাকবেন।গল্পটি শিক্ষণীয় মনে করলে শেয়ার করবেন আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে।ধন্যবাদ

লেখকঃ

ইব্রাহিম খলিল দিপু,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here