করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন হওয়ার উপায়।

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায়।

করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন হওয়ার উপায়। করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এখন বাংলাদেশেও ! সচেতনতা দিতে পারে মুক্তি

করোনা আতংক এখন বাংলাদেশেও।এইমাত্র পাওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী বলা যেতে পারে বাংলাদেশেও এখন ঢুকে পড়েছে করোনা ভাইরাস ।এখন আমাদের আতংকিত হওয়ার থেকে সতর্ক এবং সচেতন হতে হবে সবচাইতে বেশি।

অতিরিক্ত জনসমক্ষে না যাওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বাইরে না কাটানোই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। 

বাইরে থেকে ঘরে আসলে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে ।বাঁচ্চাদের উৎসাহিত করতে হবে এই ব্যাপারে ।সর্বোপরি সর্দি কাশি হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং মেডিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক করোনা বিষয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য যা আমাদের সাহায্য করতে পারে।করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন হওয়ার উপায়।

করোনা ভাইরাস কী?

করোনা ভাইরাস যা কিনা এখন পরিচিত COVID-19 নামে। COVID-19এর পূর্ণ-রূপ হল Corona Virus Disease 2019। এর মানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ভাইরাস প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটায়। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম চিহ্নিত হয় এই ভাইরাস।

                          চিত্রটি সংগৃহীত: করোনা ভাইরাসের ভিতরের অংশ।

করোনা ভাইরাস হল SARS( severe acute respiratory syndrome) এবং MERS ( Middle East respiratory syndrome) গোত্রের একটি ভাইরাস। যা কিনা নতুন ভাবে আবির্ভূত হয়েছে চীনে। এই ভাইরাস এর সবচাইতে বড় শক্তি হল এটি মানব দেহে এসে তার রূপ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। 

তাই সাধারণ ভাইরাস জনিত কারনে যে সর্দি ,কাশি ,মাথা ব্যাথা হয় তা রূপ বদলে শ্বাস নালিতে গিয়ে আক্রমণ করে। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয় এবং এটি নিউমোনিয়ার রূপে আত্মপ্রকাশ করে। অনেক সময় ব্রংকাইটিস বা ডাইয়ারিয়া তে রূপান্তরিত হয়ে যায় ।করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন হওয়ার উপায়।

করোনা ভাইরাসের নাম কেন করোনা এইটা কি আমরা কেউ ভেবেছি? আসলে করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা সকলেই এত বেশি আতঙ্কিত যে এই বিষয়ে ভাববার সময় নাই। 

তাহলে জেনে নিন কেন করোনা ভাইরাস কে করোনা বলা হয়।ইংরেজি CORONA শব্দটি এর আসল মানে হল Crownবা মুকুট ।এই শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ Korone থেকে যার অর্থ পুস্পস্তবক। সুতরাং CORONA হল পুস্পস্তবক এর মত দেখতে গোলাকার মুকুট। সূর্যের চারপাশে এই ধরনের গোলাকার প্লাজমা দেখা যায়, যার নাম CORONA। 

গতবছর চীনে উহান শহরে কিছু লোক একধরনের ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে থাকেন। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখেন যে একধরনের ভাইরাস যা কিনা মানব দেহে এসে রূপ বদলে ফেলছে দেখতে একদম সূর্যের মত। সূর্যের চারপাশে যেমন CORONA দ্বারা আবৃত, এই ভাইরাস এর চারপাশে তেমন CORONAআছে।এই জন্য এই ভাইরাস কে CORONA ভাইরাস নাম দেওয়া হয়।

কাদের হয় এই ভাইরাস?

সাধারণত যারা সিনিয়র সিটিজেন বিশেষ করে ষাট বছর ও ষাট বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ এই ভাইরাস জনিত কারনে মারা গেছেন।চীনে ষাট বছর ও তার উপরের বয়স্ক পুরুষ বা মহিলাদের সংখ্যা ১২৮মিলিয়ন। এর অর্থ হল প্রতি দশজনে একজন সিনিয়র সিটিজেন।

সুতরাং, চীনে এত দ্রুতগতিতে এই ভাইরাস ছড়ানো এবং মৃত্যু কেন হল তা কিছু টা বোঝা যাচ্ছে । উহান শহরের জনসংখ্যা ১১মিলিয়ন যা কিনা চীনের সবচাইতে জনবহুল শহরের নবম স্থানে। এই বন্দরনগর উহান শহরের বাজার হুনান সামুদ্রিক প্রানি বিক্রি করে থাকে,এইখান থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে অনেকেই ধারনা করেন। 

সাধারণত মহিলা এবং বাচ্চারা এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন কম। CCDC (Chinese Centres of Disease Control) এর এক সমীক্ষাতে দেখা গেছে ৪৪,০০০লোকের মধ্যে ২.৮% পুরুষ মৃত্যুবরন করেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে যাদের বয়স ছিল ষাট বছর থেকে আশি বছরের বেশি।অন্য দিকে মহিলাদের সংখ্যা ১.৭% আর বাচ্চাদের সংখ্যা ০.২%। 

এর প্রধান কারন হল যাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা একেবারেই নেই তারাই হুমকির মুখে বেশি।তবে, এখন সবার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে কেননা এটি একটি বায়ুবাহিত রোগ। 

আরও পড়ুনঃ আপনার কিড়নি সুস্থ আছে কিনা জানুন।
https://sonalikantha.com/আপনার-কিডনি-সুস্থ-আছে-কিজ/

                           চিত্রটি সংগৃহীত:এইখানে কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা তা দেখানো হচ্ছে 

কি কি লক্ষন দেখা যায় ?

করোনা ভাইরাস সাধারণত এক ধরনের ভাইরাস যা সন্দেহ করা হয় বাদুর বা সামুদ্রিক প্রানি থেকে এই ভাইরাস মানব দেহে ঘাটি বেধেছে। এর অর্থ হল করোনা ভাইরাস animal to human to human transmitted virus। 

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অন্তত পাঁচ থেকে চৌদ্দ দিনের মাথায় গিয়ে বোঝা যাবে যে করোনা ভাইরাস রয়েছে শরীরে। সুতরাং এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে অন্তত পাঁচ থেকে চৌদ্দদিন আর এটাই হল এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মুল কারন। 

এইভাইরস হলে যা যা প্রথমে অনুভত হয় তা হল

  • জ্বর
  • মাথা ব্যাথা
  • সর্দি ও কাশি
  • গলা ব্যাথা
  • নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া 
  • মাথা ঘোরা
  • বমি হওয়া 
  • চোখে ঝাপসা দেখা।

এবং সবশেষে যে বিষয়গুলি প্রকট আকার ধারন করে তাহল

  • শ্বাস কষ্ট 
  • নিউমোনিয়া 
  • ডাইয়ারিয়া

                           Wikipedia থেকে সংগৃহীত চিত্রটিতে লক্ষন বলা হচ্ছে                          

করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক 

এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। এই ভাইরাস কোনো এন্টিভাইরাল মেডিসিন এ বা ভ্যাকসিনেশন প্রয়োগে চলে যাচ্ছে না। যদিও চীনে তাদের ট্রেডিশনাল মেডিসিন  (TCM) প্রয়োগ করে চিকিৎসা করা হচ্ছে রুগীদের।

 যার কারনে ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা একটি প্রাথমিক ট্রেডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন  (TCM)হাসপাতাল তৈরি করে। 

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ২০২১সালের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি করা যাবে।

করোনা ভাইরাস থেকে প্রতিকারের উপায় ।করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন হওয়ার উপায়।

আগেই বলেছি করোনা ভাইরাস একটি এয়ারবর্ন বা বায়ুবাহিত রোগ।যার কারনে এই রোগ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় নিজেকে সতর্কতার সাথে সচেতন করে তোলা।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের যা যা করতে হবে তা হল

  • হাঁচি,কাশি, সর্দি হলে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।
  • বাইরে থেকে এসে হাত সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • খাবার খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • মল-মুত্র ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • পশু বা পাখি ধরলে হাত সাথে সাথে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • কেউ যদি এই ভাইরাস এ আক্রান্ত হয় তার থেকে দুরে থাকতে হবে।
  • যদি নিজে অসুস্থ হই তাহলে ঘরে থাকতে হবে।
  • সর্দি,কাশি,জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
  • মাছ,মাংস ও মুরগি যেকোনো ধরনের মাংস ভাল করে রান্না করে খেতে হবে।
  • বাইরে কোথাও পানি না পেলে সেনিটিজার বা হেক্সাসল দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
  • নিজের সর্দি;কাশি হলে মেডিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
  • যখন কোনো রোগীর সেবা দেওয়ার প্রয়োজন হবে তখন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

                           WHOএর নির্দেশিত চিত্র করোনা প্রতিরোধ করতে করনিয় উপায় 

মনে রাখতে হবে মাস্ক তখনই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে যখন আপনি হাত পরিষ্কার রাখবেন সব ধরনের কাজের পর সাবান বা সেনিটিজার ব্যবহার করে। 

                             WHOএর নির্দেশিত চিত্র করোনা প্রতিরোধ করতে করনিয় উপায়

মাস্ক ব্যবহার ও পরিধানের নিয়ম 

যদি আপনার সর্দি,কাশি হয় বা আপনি ভাইরাস এ আক্রান্ত হন তাহলে আপনি মাস্কের নীল রং বা কালারকোড পাশ টাকে সামনের দিকে দিয়ে পড়বেন। 

যদি আপনি সুস্থ থাকেন এবং মাস্ক ব্যবহার করছেন তাহলে সাদা কালার কোডের পাশটাকে সামনে রেখে পড়তে হবে। একটা মাস্ক একজন সুস্থ মানুষের একদিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। মাস্ক ব্যবহারের পর তা ভাল করে ডিসপোজ করতে হবে।যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া যাবেনা।নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলায় ঝুড়ি বা ট্রাশারে মাস্ক ফেলে দিতে হবে এবং হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দেশসমূহ 

 করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারন হল এই ভাইরাস মানব দেহে সংক্রমনের পাঁচ থেকে চৌদ্দ দিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে।এরপর তার লক্ষন দেখা যেতে থাকে।তাই যাদের মধ্যে বিশেষ করে চীন থেকে আগত লোকদের মধ্যে যদিও জীবানু সুপ্ত অবস্থায় থাকে তা বিমানবন্দরের ভাইরাস টেস্ট ডিটেক্টর এ ধরা পড়ছেনা। 

ফলে তারা বিভিন্ন দেশে ঢুকে পড়ছে এবং অসতর্কতার কারনে এবং অসচেতনতার কারনে তা ছড়িয়ে পড়ছে একজনের থেকে আরেকজনের মধ্যে ।

নিচে একটি চিত্র দেওয়া হলে যেখানে দেখানো হচ্ছে গত ডিসেম্বর থেকে কিভাবে চীন থেকে সারা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে । 

সংগৃহীত চিত্র:              

পরিশেষে 

করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকের যথেষ্ট কারন আছে যেহেতু এই ভাইরাস এর কোন প্রতিষেধক এখনও তৈরি হয়নি। 

কিন্তু আমরা যদি আতংকিত হয়ে পড়ি আর এর থেকে মুক্তির উপায়টাও না ভাবি তাহলে এই ভাইরাস আরো ছড়িয়ে পড়বে আর পড়ছেও। তাই আর নয় আতংক এখন আমাদের হতে হবে সতর্ক এবং সচেতন। 

বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যা বলছে।https://www.unicef.org/bangladesh/গল্পসমূহ/নভেল-করোনা-ভাইরাস

আপনি নিয়মিত পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করুন সন্তানদের পরিচ্ছন্ন থাকার শিক্ষা দিন। শরীরের ইমিউন সিসটেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন।অসুস্থ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকে কাছে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করুন।তাহলে আপনিও নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারবেন এই ভাইরাস মোকাবিলা করতে।মনে রাখবেন আতংক বা ভয় নয় সাহস ও সচেতনতাই দিতে পারে করোনা থেকে মুক্তি ।

লিখেছেন, তানজিলা ফারজানা তানি।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here