গান্ধীর নোয়াখালী আগমন ও ছাগল চুরির ইতিহাস।

গান্ধী নোয়াখালী আসার কারন ও ছাগল চুরির মূল ইতিহাস।

গান্ধীর নোয়াখালী আগমন ও ছাগল চুরির ইতিহাস। ভারতের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর নোয়াখালী আগমন নিয়ে অনেক ধরনের গল্প রটলেও প্রকৃত কারন খুব কম লোকই জানেন।একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, মহাত্মা গান্ধী’র ছাগল চুরি করেছে নোয়ালীর লোকজন।যারা এই কথাগুলো বলেন তারা মূলত মহাত্মা গান্ধী’র নোয়াখালী আগমন এবং ছাগলের পেছনে লুকায়িত সত্য ঘটনা জানেনা।

গান্ধী নোয়াখালী আসার কারন ও ছাগল চুরির মূল ইতিহাস।

মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী এসেছিলেন ১৯৪৬ সালে। কিন্তু কি কারনে গান্ধী নোয়াখালী এসেছিলেন সেই ইতিহাস জানিনা বলেই আমরা বলে থাকি নোয়াখালীর লোক গান্ধীর ছাগল চুরি করেছে।যারা নোয়াখালীর লোকদের গান্ধীর ছাগল চোর বলে উপহাস বা তিরষ্কার করেন তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় গান্ধী কেন নোয়াখালী এসছিলেন? তারা নিশ্চিত এই প্রশ্ন শুনে উন্মাদের মত হা করে তাকিয়ে থাকবে।

১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালী আসার কারন হলো তৎকালীন সময় নোয়াখালীতে একটি দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়।সেই দাঙ্গার নাম ছিলো ‘‘নোয়াখালী রায়োট’’। Noakhali Riot লিখে গুগলে সার্চ দিলে সেই ইতিহাস জানা যাবে।তৎকালীন এই দাঙ্গা সম্পর্কে অনেক আর্টিকেল পাওয়া যাবে গুগলে।অনেক আর্টিকেলে একতরফা লেখা হয় যে দাঙ্গায় হিন্দুদের উপর অত্যাচার করা হয়।নোয়াখালীর অধিবাসী হয়ে আমরা যারা এই দাঙ্গার ইতিহাস জানিনা এটা আমাদের জন্য ব্যর্থতা।নোয়াখালী যেহেতু মুসলিম অধ্যুসিত এলাকা তাই মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সংগঠিত সেই দাঙ্গায় মুসলিমরা বিজয় লাভ করেছিলো।

লেখক আহমেদ আফগানির এক কলাম সূত্রে জানা যায় নোয়াখালীতে সংগঠিত সেই দাঙ্গার সূত্রপাত নোয়াখালী ছিলো না।ভারত উপমহাদেশ বিভক্তের সময় কংগ্রেস এর দাবি ছিলো একক হিন্দু রাস্ট্র আর মুসলিম লীগ এর নেতৃত্বে ছিলো মুসলিমরা।ফলে পাঞ্জাব,বিহার ও কলকাতায় ভয়বাহ দাঙ্গা লাগে।বিহার রাজ্যে মুসলিমদের উপর মারাত্মক অত্যারের ফলে বিহার থেকে মুসলমানদের ঢল নামে নোয়াখালীতে।তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এর এক মুসলমান নেতা ছিলেন।তাঁর নাম ছিলো গোলাম সারোয়ার হোসাইনী।তিনি তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা ছিলেন।গোলাম সারোয়ার হুসেইনী বিহারের মুসলমানদের নোয়াখালীতে স্বাগত জানান।মুসলমানদের স্বাগত জানাতে একটি বাহিনী প্রস্তুত ছিলো। সেই বাহিনীর নাম মিয়ার ফৌজ হিসেবে পরিচিত ছিলো।

গোলাম সারোয়ার হুসেইনী ছিলেন পীর বংসের লোক।তিনি ১৯৩৭ সালে কৃষক প্রজা পার্টির নমিনেশন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৪৬ সালে তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে মুসলীম লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

গোলাম সারোয়ার হুসেইনী ভারতে এসব দাঙ্গা বন্ধে কংগ্রেস ও মুসলীম লীগ সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চিঠি দেন। কিন্তু তার এই উদ্যোগে কেউ সাড়া দেয়নি।অন্যদিকে লক্ষীপুর রায়পুরের হিন্দু জমিদার চিত্তরঞ্চন রায় চৌধুরী নোয়াখালীতে বিহারের এসব মুসলমান প্রবেশে আপত্তি তোলেন।তিনি নোয়াখালীতে  মুসলিম প্রবেশ ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।সারোয়ার সাহেব এতে ব্যাথিত হলেন।হুসেইনী সাহেব কারও থেকে কোন সাহায্য না পেয়ে এক সমাবেশ ডাক ‍দিলেন।সমাবেশে সারওয়ার সাহেব মুসলমানদের একত্রিত হয়ে চিত্তরঞ্জনকে প্রতিহতের ডাক দেন্।

মুসলমানরা সবাই একত্রিত হয়ে চিত্তরঞ্জনের বাড়ি ঘেরাও করে।চিত্তরঞ্জন জমিদার ‍ছিলো বিধায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ, পেয়াদা বাহিনী, আগ্নয়াস্ত্র, হিন্দু ও কংগ্রেস কর্মী সবাই তার পক্ষ্যে অবস্থান নেয়।কিন্তু মুসলমাদের শক্তি বেশি থাকায় তারা চিত্তরঞ্জনকে পরাজিত করে।সেই দাঙ্গায় চিত্তরঞ্জন সপরিবারে নিহত হন।

গান্ধী নোয়াখালী আসার কারন ও ছাগল চুরির মূল ইতিহাস।
সারওয়ার হুসেইনীর বাড়ি।

তারপর নোয়াখালীর প্রেক্ষাপট ‍রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়।পুরো নোয়াখালীতে মিয়া ফৌজ তখন হিন্দু উচ্ছেদে নামে।হিন্দুরা নোয়াখালী থেকে কোলকাতার উদ্দেশ্যে ঢল নামে।এবার সারা বিশ্ব খেকে সারওয়ার হুসেইনী সাহেবকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।কিন্তু তিনি কারও কথা শুননেনি।তার দলের প্রধান এ কে ফজলুল হক সাহেবের কথাও শোনেনি তিনি।

অবশেষে কোন উপায় না দেখে হিন্দুদের রক্ষার জন্য মোহনদাশ করমচাঁদ গান্ধী নোয়াখালীতে আসেন।গান্ধী আসলেও সারওয়ার সাহেব পুরো নোয়াখালীকে হিন্দু মুক্ত করার ঘোষণা দেন।গান্ধী জনাব হুসেইনী সাহেবের সাথে দেখা করতে চাইলে সারওয়ার হুসেইনী সাহেব দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুনঃ রেসলিং কি বাস্তব খেলা? http://www.sonalikantha.com/wwe-রেসলিং-কি-বাস্তব-খেলা/

গান্ধী সাহেব যেখানেই যেতো সাথে করে একটি ছাগল নিয়ে যেতেন।গান্ধী জি তার আস্তানায় প্রবেশ করা মাত্রই মিয়া ফৌজের লোকেরা গান্ধীর ছাগল তাদের হস্তক্ষেপে নিয়ে যায়। কারন গান্ধী যেখানেই যেতেন তিনি  ছাগলের দুধ পান করেন। সারওয়ার সাহেব গান্ধীর সেই ছাগলের গোস্ত রান্না করে গান্ধীর সামনে ধরেন।এটা ছিলো গান্ধী’কে সারওয়ার সাহেবের হুমকি।গান্ধীর নোয়াখালী আগমন ও ছাগল চুরির ইতিহাস।

গান্ধী নোয়াখালী আসার কারন ও ছাগল চুরির মূল ইতিহাস।

মহাত্মা গান্ধী’র প্রতি সারওয়ার সাহেব বলেছিলেন আপনি দয়া করে আগে কোলকাতা ও বিহারের দাঙ্গা বন্ধ করেন তারপর নোয়াখালীর দাঙ্গা বন্ধ হবে।এছাড়াও গান্ধী’কে বলা আমরা এখানে আপনার নিরাপত্তা দিতে পারবনা যদি না ভারতে দাঙ্গা বন্ধ না হয়।

এমতবস্থায় মহাত্মা গান্ধী বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ভারতে দাঙ্গা বন্ধ করালেন এবং নিরাপত্তার আবেদন করলেন।তারপর সারওয়ার হুসেইনী মহাত্মা গান্ধীর নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করলেন।সোনাইমুড়িতে গান্ধীর নামে আশ্রম তৈরী হলো।

সোর্সঃ কলামিষ্ট আহমেদ আফগানী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here