ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ!

ফেসবুক থেকে আয় করার কৌশল।ফেসবুক থেকে আয় কিভাবে করব?

ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ! কিন্তু কি-ভাবে?

এখন আপনিও ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ পেতে পারেন।কিন্তু কি-ভাবে? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই সুযোগ গুলো সম্পর্কে।

প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মানুষ প্রতিমাসেই ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন তাদের বন্ধু বান্ধবী এবং পরিবার পরিজনদের সাথে।এমনকি নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এই ফেসবুকেই। কখনও কি একবারও ভেবে দেখেছেন এইভাবে? “যে সোশ্যাল মিডিয়া একসময় ছিল শুধুই যোগাযোগের মাধ্যম তা এখন পরিনত হয়েছে আপনার আয়ের উৎস হিসেবে”।দুর করছে আপনার বেকারত্বকে। জেনে অবাক হচ্ছেন তাইতো?

প্রথমেই আপনাকে যা করতে হবে তাহলো আপনাকে আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হবে।কোন-ভাবে আপনি আয় করতে চাইছেন এবং কত সময়ে ? তা আপনাকেই বুঝে নিতে হবে।সেই-জন্য নিচের লক্ষ্য গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

আপনার ফেসবুক ব্যবসায়ীক লক্ষ্যকে তিন-ভাগে ভাগ করে নিন:

  • দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেসবুক থেকে আয়
  • স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেসবুক থেকে আয়
  • ইন্সট্যান্ট বা দ্রুতগতিতে ফেসবুক থেকে আয়

●এখন আপনিও ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ পেতে পারেন। দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেসবুক থেকে আয়

দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য বলতে আমি বোঝাতে চাইছি, একটু সময় নিয়ে কাজ করতে হবে আপনাকে।এমনটা মনে না করি যেন , আমরা যে ফেসবুকে প্রোফাইল খুলেই আমরা আয় শুরু করবো।এই ধারনা একদম ভুল। এই ধারনা থেকে বের হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রথমে আপনাকে একটা নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে হবে।আপনি আপনার প্রোফাইলে বন্ধু সংখ্যা বা যাকে আমরা ফেসবুক ফ্রেইন্ডস বলি বাড়াতে হবে।এইজন্য আপনার প্রোফাইল পাবলিক করে রাখতে হবে।

এখানে অবশ্যই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 

তাহল- আপনি আপনার নিজস্ব প্রোফাইলটাকেই ফেসবুক বিজনেসের জন্য ব্যবহার করবেন নাকি নতুন করে তৈরি করে নিবেন। আমার পরামর্শ থাকবে আপনি যদি ফেসবুক থেকে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার একটা নতুন প্রোফাইল Create করবেন বা খুলে নিবেন।যা আপনার নিজস্ব সত্য পরিচয়েই হতে হবে।

আপনি আপনার পারসোনাল প্রোফাইল থেকে এই প্রোফাইলে সবাই কে add করে নিবেন। তবে আপনি নিজের প্রোফাইল থেকেই বিজনেস শুরু করতে চাইলে তো কোনো সমস্যা হবে না।এরপর আপনি আপনার নিশ/Niche বা বিষয় নির্ধারণ করে নিবেন।এর অর্থ হল আপনি আসলে কোন টার্গেটেড অডিয়েন্স বা জনসাধারণ নিয়ে কাজ করতে চাইছেন তা ঠিক করে নিতে হবে।

কোন-বিষয়ে আসলে আপনি পারদর্শী? আপনি কি একজন রাইটার বা একজন ড্রেস ডিজাইনার বা একজন বিউটিশিয়ান?যে বিষয় আপনি মনে করবেন আপনি অনেক ভাল জানেন এবং বুঝেন সেই বিষয়টাকেই আপনি টার্গেট করবেন।

যে বিষয় বা নিশ/Niche নিয়ে  আপনি শুরু করতে পারেন তা হল:

  • ডিজিটাল মার্কেটিং 
  • রাইটার বা লেখক
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ 
  • রূপ-চর্চা 
  • রান্নাবান্না
  • কৌতুক
  • ভ্রমন

আরো অনেক কিছু।আপনি হয়তো কোনো একটা বিষয় অনেক ভাল জানেন সেই-সাথে আপনার আগ্রহ আছে । তাহলে ঐ বিষয় টা নিয়ে কাজ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন প্রোফাইলে আপনার যত বেশী বন্ধু হবে তত বেশি আপনার জন্য সুবিধা হবে।এইজন্য আপনাকে সব সময় কিছু না কিছু শেয়ার করতে হবে।আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান সেই বিষয় নিয়ে পোস্ট করবেন অথবা আলোচনা করবেন। আপনার বন্ধু দের মতামত নিবেন।তাদের কে আপনার চিন্তা ও চেতনার সাথে জড়িয়ে নিতে হবে। 

আপনার বন্ধু সংখ্যা বাড়াতে তাদের মাঝে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে এইবিষয়টা অনেক কাজ করবে পরবর্তী তে।ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে এর মাধ্যমেই।

 কি-ভাবে? তাহলে জেনে নিন কি ভাবে ফ্রেন্ডস লিস্ট বড় করে আপনার আয় করার জন্য কাজে লাগাবেন ।

প্রথমে আপনাকে একটা ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপ তৈরি করতে হবে।এইগ্রুপে বা পেইজে আপনার সেই ফ্রেন্ড লিস্টের বন্ধুদের add করবেন। তাদেরকেও বলবেন তাদের আইডি থেকে পরিচিতদের গ্রুপে addকরতে অথবা পেইজে ইনভাইট করতে।

এইখানে আপনি দুই ভাবে আপনার ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন।কি ভাবে তা নিচে দিলাম 

যেমন:

প্রথম পদ্ধতি

সবসময় সবার সাথে আপনি কি ভাবছেন বা আপনি যে বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান সেই বিষয় নিয়ে লিখবেন।সবার মতামত চাইবেন।শেয়ার করতে বলবেন যেন আরো অনেকেই ঐ বিষয়ে জানতে পারে।

যেমন:

আপনি টিনএজ বা বয়ঃসন্ধি ছেলে মেয়েদের মানসিক সমস্যা নিয়ে লিখতে পারেন। এই বিষয় কি কি সমস্যাতে তারা পড়ে তা নিয়ে আলোচনা করবেন।সবার মতামত চাইবেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি 

কনটেস্ট বা প্রতিযোগীতা করবেন বা রিওয়ার্ডস ব্যবস্থা করবেন।

আপনি একজন ভাল মন-মানসিকতার মানুষ সেই পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে হবে।যেন আপনি সবার কাছে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন।

আপনি অনেক ধরনের গ্রুপ খুঁজে পাবেন ফেসবুকে।ঐ গ্রুপ গুলোর মাধ্যমেও আরো ফলোয়ার পেতে পারেন।

যেমন: 

  • ডিজিটাল মার্কেটিং গ্রুপ
  • ট্রাভেল গ্রুপ
  • রান্নাবান্না গ্রুপ
  • ড্রেস অথবা প্রোডাক্ট সেইলগ্রুপ
  • রিলিজিয়ন গ্রুপ
  • পড়াশোনা বিষয়ক গ্রুপ ইত্যাদি।

এখন আপনার মনে হতে পারে এইভাবে ফ্রেইন্ডলিস্ট বড় করে বা গ্রুপ করে আসলে কি ভাবে আয় করবেন? আপনাকে মনে রাখতে হবে ফেসবুকে আয় করতে হলে আপনার ফোলোয়ার অবশ্যই বাড়াতে হবে।আপনাকে হতে হবে একজন পরিচিত মানুষ যেন সবাই আপনার বিষয়ে বা আপনি যা বলতে চাইছেন তা শুনতে চাই। এবং একটা পর্যায়ে আপনি তাদেরকে যা বলছেন তারা যেন তা করতেও পছন্দ করেন।

এতে করে যখন আপনার এক লক্ষ বা দশ লক্ষ ফলোয়ার হয়ে যাবে গ্রুপের মাধ্যমে তখন অনেক নামকরা ব্রান্ড আসবে আপনার কাছে তাদের প্রোডাক্ট প্রমোশন করার জন্য। কারন খুব স্বাভাবিক আপনার দশ লক্ষ ফলোয়ার এর মধ্যে আপনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্তত দুই হাজার লোক ঐ ব্রান্ডের প্রোডাক্ট কিনবেন।

যদিও বা তারা না কিনেন তারপরেও তাদের প্রোডাক্ট এর একটা প্রমোশন আপনার মাধ্যমে হয়ে যাবে। এরজন্য আপনাকে তারা কিছু পেমেন্ট অবশ্যই করবেন ।এই পদ্ধতিকে বলাহয় ইনফ্লুয়েন্সার/ Influencer হয়ে আয় করা।

সুতরাং দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে এইভাবে কাজ করা অনেক লাভজনক। আর এইপর্যায়ে আপনাকে আসতে বড়জোর একবছর লাগবে যদি আপনি অডিয়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী বিষয় বা নিশ নির্ধারণ করে সামনে এগিয়ে চলেন।

পরবর্তীতে আপনি চাইলে আপনার গ্রুপ বা পেইজ অন্য এক ব্রান্ডের কাছে বিক্রিও করে দিতে পারবেন।যখন তারা দেখবে আপনার ফেসবুক একটিভ পেইজে প্রায় এক বা দশ লক্ষ ফলোয়ার তখন তারা পেইজ বা গ্রুপ কিনতে এগিয়ে আসবেন।

এরপর বলবো কিভাবে আপনি ইনফ্লুয়েন্সার না হয়েও ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন ।অনেকের জন্যই আসলে ইনফ্লুয়েন্সার হওয়াটা একটু কঠিন ব্যাপার হতে পারে।

সেক্ষেত্রে আপনি কিভাবে আয় করবেন? এইজন্য আপনাকে কাজ করতে হবে এডসেন্স বা গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে। আপনি যদি এডসেন্সের কাজ করেন তাহলে আপনি দুই-ভাবে আয় করতে পারবেন। যখনি আপনার ফেসবুক ফলোয়ার বেড়ে যাবে তখন আপনি নিচের কাজ গুলো করে সহজেই আপনি আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং/Blogging

আপনি একটা নিজস্ব ব্লগসাইট তৈরি করে নিতে পারেন।সেই সাইটে আপনি ব্লগ লেখা শুরু করলেন এবং সেই লেখার লিংক আপনি আপনার ফেইসবুক পেইজে শেয়ার করতে পারেন বা আপনার গ্রুপে শেয়ার করতে পারেন। এইভাবে আপনার ফলোয়ার তখন আপনার সাইটে গিয়ে আপনার লেখা পড়বে এবং আপনি একটা ভাল আয় করতে পারবেন সেইখান থেকে।

যেমন: 

আপনি একটা নিউজসাইট তৈরি করলেন যেখানে সবধরনের খবর প্রকাশ করা হয়।ঠিক সেইভাবে আপনি ফেসবুকে আপনার পেইজ বা গ্রুপে  ঐ বিষয়ে আলোচনা করলেন সেই সাথে আপনার ব্লগলেখার লিংক দিয়ে বললেন বিস্তারিত জেনে নিতে।তখন আপনার ব্লগসাইটে ভিজিটর বেড়ে যাবে।

এফিলিয়েট/Affliate

এফিলিয়েট একটি এমন বিজনেস যার মাধ্যমে আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও আয় করবেন ।কি অবাক হচ্ছেন এই বিষয় জেনে?কিন্তু আসলেই তাই,চলুন তাহলে জেনে নিই কিভাবে আপনি এফিলিয়েট করে ফেসবুকে আয় করবেন। আপনি যে কোনো একটা বেচাকেনা সাইটের এফিলিয়েটর হিসেবে কাজ করার অনুমোদন নিয়ে নিলেন।

এরপর ঐসাইটের প্রোডাক্টগুলো সম্পর্কে আপনি কিছু লিখলেন এবং ঐ প্রোডাক্ট এর লিংক আপনার ফেসবুক পোস্ট এ দিয়ে দিলেন।এরপর যতদিন পর্যন্ত, আপনার ঐ পোস্টের লিংকে কেউ না কেউ যাবেন এবং ঐ প্রোডাক্ট কিনবেন ততদিন পর্যন্ত আপনি ঐ প্রোডাক্ট বিক্রির একটা অংশ পেতে থাকবেন।

যেমন: 

Daraz এর এফিলিয়েটর হিসেবে আপনি কাজ করবেন। তাহলে আপনি Daraz এর একটা প্রোডাক্ট হতে পারে তা কোনো ব্রান্ডের মোবাইল বা মেকাপ বক্স নিয়ে লিখলেন এবং ঐ প্রোডাক্ট এর লিংক আপনি আপনার পোস্টে দিয়ে দিলেন।এরপর থেকে যখনি কেউ আপনার ঐ লিংকে ঢুকে ঐ প্রোডাক্ট কিনবে আপনি তখনি তার একটা পারসেন্টেজে পাবেন।

ফেসবুক ওয়াচ/Watch ভিডিও 

নতুন আরেকটি ক্যাটগরি ফেসবুক গত ২০১৭ সালে আগস্টে যোগ করে আর তাহল ফেসবুক ওয়াচ।এই ফেসবুক ওয়াচের মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারবেন।ফেসবুক ওয়াচ যেখানে সাধারণত প্রায় একমিনিট ভিডিও কনটেন্ট আপলোড করতে হয়।

এই ভিডিও হতে পারে কোনো প্রডাক্ট রিলেটেড, হতে পারে কোনো কৌতুক অভিনয় বা হতে পারে কোনো শিক্ষনিয় যেমন সেলাই কিভাবে করে বা রান্নাবান্না কিভাবে করে।ওয়াচে যত ভিউয়ার আপনি পাবেন ততই আপনার ভিডিও শো গুলিতে ব্রান্ড প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপনের জন্য আবেদন করবে।

সেখান থেকে আপনি আয় করতে পারবেন ।সেই সাথে যদি কেউ ঐ ব্যান্ডর প্রোডাক্ট আপনার ভিডিও দেখার সময়ে লিংকে গিয়ে ক্রয় করে সেই প্রোডাক্টের একটা পারসেন্টেজ আপনি পাবেন।

যেমন: 

আপনি রান্না বান্না বিষয়ক ভিডিও তৈরি করেন এবং আপনার দশ লক্ষ ফলোয়ার এর অন্তত দশ হাজার তা প্রতিনিয়ত দেখছেন।যখন একটি “A” ব্রান্ড মশলা বা তেলের কম্পানি আপনার ঐ ভিডিও তে ভিউয়ার বেশি দেখে প্রমোশন করতে চাইবেন তখন আপনি আয় করতে পারবেন।সাথে কেউ ঐ “A”  ব্রান্ডের তেল বা মশলা কিনলে সেখান থেকেও আপনি পারসেন্টেজ পাবেন।

  • স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেসবুক থেকে আয়

এই পদ্ধতিতেও ঘরে বসে ফেসবুক থেকেই আয় করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। মনে রাখতে হবে সব সময়ই আপনাকে আপনার ফলোয়ারদের সংখ্যা বেশি রাখতেই হবে।কারন এই অডিয়েন্স বা জনসাধারণের মাধ্যমেই আপনি আয় করবেন।যতবেশি মানুষ যোগ হবে আপনার পেইজে বা গ্রুপে বা আইডিতে ততবেশিই আপনার আয়ের সম্ভবনা বাড়তে থাকবে।তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি গুলো।

প্রোডাক্ট বিক্রি বা বিজ্ঞাপন তৈরি

আপনি নিজেই চাইলেন কিছু বিক্রি করতে সেক্ষেত্রে আপনি আপনার পেইজ বা গ্রুপকে ভাল কাজে লাগাতে পারবেন। আপনাকে নিজে উদ্যোগী হতে হবে। কিছু ইনভেস্ট করতে হবে।বিজ্ঞাপন করতে হবে এইজন্য আপনি লাইভ দিয়ে একটা বিজ্ঞাপন করতে পারবেন।আপনার প্রোডাক্ট বিক্রয় করতেও পারবেন। 

যেমন:

আপনি প্রসাধন সামগ্রী বিক্রয় করতে চাইছেন।আপনি কিছু প্রসাধন বিভিন্ন ব্রান্ডের ক্রয় করলেন।হতে পারে তা স্বল্প পরিসরে একহাজার টাকার। এইবার আপনি একটি লাইভ করলেন এবং প্রসাধন সামগ্রী আপনি ব্যবহার করে কি কি ফল পেয়েছেন আর কতটুকু উপকারি জানালেন আপনার ফলোয়ারদের।

এরপর তাদের বললেন যে ঐ প্রসাধনী আপনিই বিক্রি করছেন।কেউ নিতে চাইলে আপনাকে জানাতে ।আপনি তাদেরকে ঐ প্রোডাক্ট বিক্রি করলেন।যদি একহাজার টাকার ইনভেস্ট করেন তাহলে আপনার প্রোডাক্ট ভাল হলে তার চারগুন আয় করতে পারবেন।

তবে এইক্ষেত্রে আপনাকে সাবধান হতে হবে সেই সাথে সৎ।আপনি সৎ ভাবে একটা ভাল প্রোডাক্ট বিক্রি করলে অবশ্যই লাভ পাবেন।কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট কোয়ালিটি খারাপ হলে এর বিপরীত হতে পারে।

ক্রয় বা বিক্রয় গ্রুপ তৈরি

আপনি বিভিন্ন Buy and sellগ্রুপেও জয়েন করতে পারেন।সেখানেও আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন এবং আয় করতে পারেন।

  • ইন্সট্যান্ট বা দ্রুতগতিতে ফেসবুক থেকে আয়

এতকিছুই যদি আপনার কাছে করতে অনেক সময় নষ্ট মনে হয় তাহলে আপনি ইন্সট্যান্ট পদ্ধতিতেও আয় করতে পারবেন। নিচে তার কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করলাম।

Read more মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট থেকে সহজে আয় করুন।

চাকুরি সন্ধান 

কি অবাক হচ্ছেন এইটা ভেবে ফেসবুকে চাকরির সন্ধান কিভাবে সম্ভব? এখন সম্ভব কারন ফেসবুক তার নতুন আরেকটি সার্ভিস দেওয়া শুরু করেছে আর তা হল Jobs সেকশনে।এইখানে অন্যান্য জব হান্টিং সাইট গুলোর মত ফেসবুকেও অনেক চাকরি-দাতা তাদের কাজের নিয়োগ সংক্রান্ত পোস্ট করেন।

আপনি আপনার পছন্দ মত পদ বা পজিশন সিলেক্ট করলেই সেই সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেতে থাকবেন।এইখান থেকে আপনি আপনার মনের মত চাকরি পেয়েও যেতে পারেন। এইখানে আপনার রিজুমি বা সিভি তৈরি করে রাখার অপশন আছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার কাজ করা 

আপনি পেজের মাধ্যমে কিভাবে লিড জেনারেট করেছেন বা অডিয়েন্স কে ইনফ্লুয়েন্স করেছেন এইটা কোনও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটারকে দেখাবেন। অনেক সহজেই আপনাকে তিনি  একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দিতে পারবেন।কারন আপনার এই বিষয়ে প্রাকটিক্যাল ধারনা আছে।অবশ্যই তাদেরকে আপনি সহযোগিতা করতে পারবেন খুব সহজেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং কনসালটেন্সি 

আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং কনসালটেন্ট হিসেবেও কাছ করতে পারবেন ইন্টারনেটে।যখন এক নতুন কম্পানি বা ব্রান্ড তার প্রোডাক্ট এর রিভিনিউ বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চাইবে তখন আপনার অভিজ্ঞতা ও অডিয়েন্স কে ইনফ্লুয়েন্স করার পদ্ধতি তাদের  শেয়ার করতে পারেন।তাদের সাথে একজন ফ্রিল্যান্সার কনসালট্যান্ট হিসেবে থাকতে পারেন।সেই হিসেবে আপনি তাদের কাছ থেকে আয় করতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এজেন্সি 

সবশেষে আপনি যখন মনে করবেন যে আপনি নিজেই একটা এজেন্সি তৈরি করতে পারবেন। এবং আপনি কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়ে আপনার সব গুলো গ্রুপ ম্যানেজ করার ট্রেইনিং দিলেন। সেইখান থেকে কিভাবে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করা যায় তাদেরকে জানালেন।তাদেরকে  দক্ষ করে একটা শক্তিশালী এজেন্সি গড়ে তুলতে সক্ষম হলেন।যার মাধ্যমে আপনি অন্য বিজ্ঞাপনদাতাদের আকৃষ্ট করতে পারবেন।তাদের ব্যান্ডকে প্রোমোট করতে পারবেন আর আয় করবেন।

পরিশেষে

ফেসবুকে বসে থেকে আমরা কত না সময় অপচয় করি।কিন্তু আমরা যদি ফেসবুককেই আমাদের উপার্জনের একটা মাধ্যম হিসেবে নিতে পারি তাহলে আমারা স্বনির্ভর হতে পারবো। আপনি দীর্ঘ মেয়াদী বা স্বল্প মেয়াদী বা ইনস্ট্যান্ট যে পন্থা অবলম্বন করেন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আপনি আয় করার সুযোগ পাবেন।

তবে দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করা আমাদের অনেকের জন্যই সহজ হবে।কারন আমরা বেশিরভাগই অনেকদিন ধরে ফেসবুকের সাথে জড়িয়ে আছি।সুতরাং এখনই সময়- নিজেকে এই সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু ছবি বা সেলফি আপলোড এবং সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

উপার্জনের একটি দরজা খুলে দেওয়া।যা এখন অনেকেই করছেন এবং নিজেকে বেশ প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। হয়তো ফেসবুক ইন্ফ্লুয়েন্সার হিসাবে অথবা নিজস্ব প্রোডাক্ট বিক্রয়ের মাধ্যমে।যার উদাহরণ আমরা ফেসবুকে আসলেই পাই।

তাই আর সময় নষ্ট না করে এখনই ঘরে বসে ফেসবুক থেকে আয় করার সুবর্ণ সুযোগ গ্রহন করে ফেলুন।নিজে সাবলম্বি হন অন্যকেও সুযোগ করে দিন।ফেসবুক আমাদের সামনে সেই নতুন দরজাই খুলে দিয়েছে।

Read More বাংলাদেশে কন্টেন্ট ক্রিয়েটাররা এখন ঝুঁকছেন ফেসবুকের দিকে

আপনাদের কি মনে হয় খুব কঠিন কিছুফেসবুক থেকে আয় করা??মতামত জানাতে ভুলবেন না।

wroted by Tanzila Farzana Tani

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here