তালাক সম্পর্কে ইসলাম কি বলে।

তালাক,ইসলামে তালাক,

তালাক সম্পর্কে ইসলাম কি বলে। বর্তমান সময়ে এসে আমরা মুসলমানরা এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেচি ্অনেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  ইসলামের ভূল ব্যাখ্যা দেয়।তার মধ্যে বর্তমান সময়ে বহুল ঘটিত বিষয় তালাক।আমাদের সমাজে এখন স্বামী – স্ত্রীর মধ্যে তালাক হওয়ার মাত্রা খুবই অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালাক বিষয়ে কিছু মাসআলা দেওয়া হলো।এই মাসআলা গুলোর আলোকে কারও কারও কোন ঘটনা ঘটে গেলে শুধু এই মাসআলার্ নির্ভর না হয়ে অবশ্যই ভালো কোন মুফতী সাহেবের শরনাপন্ন্ হবেন।মাসআলা গুলো লেখার উদ্দেশ্য হলো অনাকাঙ্খিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা।রাগের মাথায় যেন কেউ উদ্ভট কোন কথা উচ্চারণ না করে সচেতন থাকা যায় সেই উদ্দেশ্যে এই মাসআলা গুলো লেখা হয়েছে।আমাদের একটি ভূলের জন্য যেন সারা জীবনের মূল্যবান একটি সংসার তছনছ না হয় সেই বিশয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে লেখাগুলো।

আরও পড়ুনঃ ইসলামে তালাক দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি। https://www.kalerkantho.com/online/Islamic-lifestylie/2017/12/05/573850

মাসআলাঃ কেউ তার স্ত্রীকে ঠাট্টা করে তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যাবে।– তিরমিজী শরীফ, হাদিস নং- ১১৮৪।

মাসআলাঃ কেউ তালাকের মিথ্যা স্বীকারোক্তি করলে তা পতিত হয়ে যায়।অর্থাৎ পূর্বে তালাক না দিয়েও কেউ যদি তালাক দিয়েছে বলে থাকে তা পতিত হয়ে যাবে।– রদ্দুল মুহতার ৩/২৩৮।

মাসআলাঃ রাগান্বিত অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যায়।অনুরূপভাবে মদ্যপ অবস্থায় মাতাল হয়ে তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যায়।– ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩, আল মুহিতুল বোরহানী ৩/৩৪৮, আদ্দুরুল মুখতার/ ২৩৫,২৪১,২৪৪।

মাসআলাঃ কেউ তার স্ত্রীকে বলল, ‘‘আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি’’ এর দ্বারা তালাক হয়ে যাবে।চাই তার তালাকের নিয়ত থাক বা না থাক।– রদ্দুল মুহতার ৩/২৯৯, আলমগিরী ১/৩৭৯।

মাসআলাঃ তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বাক্ষীর সামনে তালাক দেওয়া বা স্ত্রীর উপস্থিতিতে তালাক দেওয়া জরুরী নয়।বরং কেউ একাকী নি্র্জনে তার স্ত্রীকে তালাক দিলে তা পতিত হবে। ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৪১,৪৮,৬৮।

আরও পড়ুনঃ জুলুম অত্যাচার সম্পর্কে ইসলাম যা বলে। https://sonalikantha.com/জুলুম-অত্যাচার-সম্পর্কে/

মাসআলাঃ মেীখিকভাবে তালাক দিলে যেমনিভাবে তালাক পতিত হয় তেমনিভাবে মুখে উচ্চারণ ব্যাতিত লিখিতভাবে তালাক দিলে তা পতিত হয়। -রদ্দুল মুহতার৩/২৪৬,২৪৭।

মাসআলাঃ কেউ তালাকনামায় স্বজ্ঞানে স্বাক্ষর করলে লিখিত তলাকনামা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যায়।– তাতারখানিয়া৩/৩৮০।

মাসআলাঃ কেউ উকিলকে বা অন্য কাউকে বলল, ‘‘আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দেব’’ তালাকনামা লিখুন।এর দ্বারাই তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়ে গেলো।চাই সে তালাকনামা লিখুক বা না লিখুক।– তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯, রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৬।

মাসআলাঃ স্পষ্টভাবে তালাক দিলে (যেমন কেউ তার স্ত্রীকে বলল আমি তোমাকে তালাক দিলাম) নিয়তের প্রয়োজন নেই।তার নিয়ত যাই থাকুক না কেন তালাক পতিত হয়ে যাবে।– বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪২২, রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৭।

মাসআলাঃ কেউ এক্ই মজলিসে এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে।এক তালাক নয়।চাই সে এক শব্দে তিন তালাক দিক বা ভিন্ন শব্দে। উভয় অবস্থায় তিন তালাক পতিত হবে।আর এটিই চার ইমামের মাযহাব।– সুরা বাকারা,আয়াতঃ ২৩০।সহীহ বুখারী,হাদিস নং ৫২৬১,৫২৫৯।সুনানে নাসাই িহাদিস নং- ৩৪১,সুনানে বাইহাকী,হাদিস নং ১৪৩৭৩৫,মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদিস নং ১১৩৪৩।তালাক সম্পর্কে ইসলাম কি বলে।

মাসআলাঃ স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে শরঈ হালালা ব্যাতিত তার সাথে ঘর সংসার করা নাজায়েজ ও হারাম।যদি অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপিত হয় অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বেচ্চায় তালাক দেয় তবে ইদ্দত পালনের পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।–সূরা বাকারাহ,আয়াত নং ২৩০,সহীহ বুখারী হাদিস নং ৫২৬১,৫২৫৯।

মাসআলাঃ কেউ রাগান্বিত অবস্থায় স্ত্রীকে বলল তুমি মুক্ত বা তুমি আমার জন্য হারাম বা তুমি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন বা তুমি ইদ্দত পালন কর বা তুমি এখন থেকে একা বা তুমি স্বাধীন তবে কোন নিয়ত ব্যাতিত স্ত্রীর উপর একটি বায়েন তালাক পতিত হবে।যদিও নিয়তে না থাক। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৯৬-২৯৮,আল বাহরুর বায়েক ৩/৫১৮-৫২৩,ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৩১০।

স্ত্রী বা অন্য কেউ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো স্বামী স্ত্যকে জবাবে বলল তুমি মুক্ত বা তুমি আমার জন্য হারাম বা তুমি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন বা তুমি ইদ্দত পালন কর বা তুমি এখন থেকে একা বা তুমি স্বাধীন তবে কোন নিয়ত বাদে স্ত্রীর উপর একটি বায়েন তালাক পতিত হলো। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৯৬-২৯৮  তাবয়িনুল হাকায়েক ৩/৭৮।

মাসআলাঃ তালাক বায়েন হলে নতুন করে মোহরানা করে দুজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ঈজার কবুলের দ্বারা বিবাহ দোহরানো ব্যাতিত স্ত্রী হালাল হবেনা।–ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪৭২।

উপরোল্লেখিত আলোচনায় বিভিন্ন কারনে তালা্ক হওয়া স্ত্রী ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকলেও ‘‘হুরমতে মুছাহারাহ’’ হলে স্ত্রী কেয়ামত অবধি হারাম হয়ে যায় স্বামীর জন্য।এই নিম্নে আলোচনা তুলে ধরা হলো।

মাসআলাঃ যদি কোন পুরুষ ও মহিলা একে অপরকে কামভাবে (শাহওয়াতের সাথে) স্পর্শ করে অথবা পুরুষ মহিলার লজ্জাস্থানের ভেতরে কামভাব নিয়ে দৃষ্টি দেয় তবে তাদের কেউ কারও সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেনা।যদি বিবাহ হয়ে থাকে তাহলে আজীবনের জন্য একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যাবেঅ।একে হুরমতে মুছাহারাহ বলে। -এলাউস সুদান-১১/১৩১-১৩২, রদ্দুল মুহতার-৩/৩১-৩৩।

মাসআলাঃ কেউ তার শাশুড়ি বা মেয়েকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করলে তার স্ত্রী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।–রদ্দুল মুহতার ৩/৩১-৩৩।

মাসআলা। কোন মহিলা তার ছেলে বা শশুরকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করলে তার স্বামী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।–আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩১-৩৩।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here