নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ।

নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ।
ছবিঃ কাপ্তাই হ্রদ-সোনালী কন্ঠ

নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ। দৃষ্টিনন্দন সবুজে ঘেরা ও নীল পানির লেক কাপ্তাই লেক। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির এই লেকটির সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমুগ্ধ করছে।  প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আরও একটি নিদর্শন কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।অথৈ জলরাশি,সবুজে ঘেরা চারপাশ,পানির মধ্যখানে উঁচু টিলা লেকের সৌন্দর্য কে করেছে মনমুগ্ধকর। নীল রঙের পানির ঢেউ, পাহাড় পর্বতের উঁচুনিচু কারুকার্য যেন ফুটিয়ে তুলেছে বাড়তি সৌন্দর্য ।দক্ষীন এশিয়ার সবচেয়ে বড় কৃত্রিম লেক কাপ্তাই লেক। অসম্ভব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন কাপ্তাই লেকের ঝর্ণা ধারা আর পানির বুকে বয়ে চলা নৌকা গুলোর দৃশ্য দেখে হারিয়ে যাচ্ছিলাম যেন এক অজানা স্বর্গীয় আনন্দে। 

আরও পড়ুনঃ “হরিণের বিচরণ ভূমি নিঝুম দ্বীপ।”> http://sonalikantha.com/হরিণের-বিচরণ-ভূমি-নিঝুম-দ/


লেকের ভিউ দেখে যতটা মুগ্ধ হবেন তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হবেন লেকের পানিতে নৌকা ভ্রমণে ।লেকের পানিতে নৌকায় চড়ে যত দূর এগিয়ে যাবেন প্রতি মুহূর্তে যেন আপনার চোখের সামনেই পালটে যাচ্ছে দৃশ্যপট ।নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ।

দেখতে দেখতে এক সময় মনে বিশ্বের সৌন্দর্যের রানী খ্যাত কাশ্মীর এর কোন দর্শনীয় স্থান উপভোগ করছেন।নীল জলরাশির মধ্যে দুলতে দুলতে চলা নৌকা আর শীতল বাতাস জন্ম দিবে অন্যরকম অনুভূতি আর চমৎকার রোমান্টিক দৃশ্য । সামান্য দূরত্ব পর পর ছোট ছোট পাহাড় গুলো দূর থেকে তাকিয়ে দেখার অনুভুতি স্বচক্ষে অনুধাবন না করলে  কোন কবি বা লেখকের ভাষায় এই সৌন্দর্য লিখে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব।


নৌকা ভ্রমণ শেষ করে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত কাপ্তাই লেকের পাশের সড়ক পথে হাঁটতে হাঁটতে আরো মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। কাপ্তাই লেকের হেলিপেড এর উপরে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের ভিউ লক্ষ্য করলে  উপভোগ করবেন চমৎকার এক পরিবেশ । হেলিপেড থেকে চমৎকার ভিউ সমৃদ্ধ ফটস্যুট যে কারও পছন্দনীয়। সেনাবাহিনী বেস্টিত পার্ক পর্যটকদের ক্লান্তি কাটানোর মনোরম মাধ্যম। 


কাপ্তাই লেকে নৌকা বা স্পিডভোট চড়ে পুরো রাঙ্গামাটি জেলার উপজেলা গুলো ভ্রমণ করতে পারেন।কাপ্তাই লেকের বিস্তৃতি পুরো রাঙ্গামাটি জেলা জুড়েই। রাঙ্গামাটি সদর,কাপ্তাই,বরকল,নানিয়ার চর,লংগদু,জুরাছড়ি,বাঘাইছড়ি,বিলাইছড়ি পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের ছোঁয়া লেগেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ।


ইতিহাস ও গঠণপ্রণালী
কৃত্রিম নীল পানির কাপ্তাই লেকের আয়তন প্রায় ১১,০০০ বর্গ কিলোমিটার।ইংরেজ সরকার ১৯০৬ সালে প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা করে কাপ্তাইয়ে।তারপর আমেরিকা সরকারের অর্থায়নে পাকিস্তান সরকার  ১৯৫৬ সালে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কাপ্তাই বাঁধ তৈরি কাজ শুরু করেন ।১৯৬০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।  নির্মাণের পর পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি সংরক্ষণের জন্য বাঁধ নির্মাণের ফলে নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়।তারপর হ্রদের সৃষ্টি হয়।

এই হ্রদের সর্বনিম্ন গভীরতা ৩০ ফুট এবং  প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত ।বলা আছে কাপ্তাই হ্রদটি ৯০ বছরের মধ্যে ভরাট হয়ে যাবে। ১৯৯০ সালের হিসেব মতে তখনই এই হ্রদটি ২৫% ভাগ ভরাট হয়ে যায়। 
ইংরেজি এইচ বর্ণের আকৃতি বিশিষ্ট কাপ্তাই লেক এর দুটি বাহু রয়েছে। সুভলং এর নিকটে গিরিসঙ্কট দ্বারা সংযুক্ত যা কর্ণফুলী নদীপথের অংশ। কাপ্তাই হ্রদের ডান বাহু বা কাসালং দক্ষীন দিকে দুটি আন্তপ্রবাহি নদী মাইনি ও কসালং দ্ধারা এবং পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদী দ্বারা পুষ্ট ।রাঙামাটি-কাপ্তাই অর্থাৎ বাম বাহুটি দুটি নদী দ্বারা  বেস্টিত। উত্তরে চেঙ্গি বা চিংরি দক্ষিণে রাইন খিয়াং দ্বারা পুষ্ট।

ভূতাত্ত্বিক ভাবে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি অঞ্চলের কাপ্তাই হ্রদের নিম্নাঞ্চল কর্দম শিলা ও পলি শিলার সাথে প্রধাণত হলুদাভ বাদামি ,সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি দানাদার ,ঘন থেকে তির্যক স্তরিত বেলে পাথরে গঠিত। এবং ঊর্ধ্ব অঞ্চল হলুদাভ-বাদামি ,সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি দানাদার ঊপোকৌনিক থেকে উপগলিত,মাঝারি থেকে কম বাছাই ,ভারি থেকে ঘন স্তরিত এবং সুরক্ষিত পত্র ছাপ সমৃদ্ধ মাঝে মাঝে তির্যক স্তরিত বেলেপাথর। তার সঙ্গে স্ফটিক দানা ,নুড়ি ও কাদা পাথর দ্বারা কারুকাজ করা।মূলত রাঙ্গামাটি শহরের সৌন্দর্য ও পর্যটন নগরি হয়ে ওঠার কারন এই কাপ্তাই লেক।কাপ্তাই লেক ঘেঁষেই রাঙ্গামাটির পথে রাস্তা গিয়েছে বলে কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি একসাথে ভ্রমণ করার দারুন সুজোগ রয়েছে ।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি আসার জন্য সড়ক পথে যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে বিধায় খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন। ঢাকার সায়দাবাদ,আরামবাগ,ফকিরাপুল কাউন্টার থেকে শ্যামলি পরিবহন,এস আলম পরিবহন,হানিফ পরিবহনের বাস রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 
হানিফ পরিবহনঃ সায়দাবাদ কাউন্টার– ০১১৯১১২৫০৪৮
শ্যামলি পরিবহনঃ সায়দাবাদ কাউন্টার– ০২-৭৫৪১০১৯
এস আলম পরিবহন-ফকিরাপুল কাউন্টার– ০২-৯৩৩১৮৬৪

এছাড়াও চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর কাপ্তাইর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। 


আবাসন এবং খাবারের ব্যবস্থাঃ কাপ্তাইইয়ে থাকার মত তেমন কোন আবাস্ন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সেনা ও নৌবাহিনীর অধীনে কিছু বাংলো রয়েছে যেগুলো থাকতে আগে থেকে যোগাযোগ করতে হয় অথবা কারো রেফারেন্স নিতে হয়। রাঙ্গামাটি রয়েছে হোটেল গোল্ডেন হিল, রিজার্ভ বাজার রাঙ্গামাটি,ফোন; ০১৮২০৩০৪৭১৪।

এছাড়াও রাঙ্গামাটিতে আরো কিছু হোটেল পাবেন।
খাওয়ার জন্য কাপ্তাই তে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্ট রয়েছে।এগুলোতে খাবার পাবেন বিশুদ্ধ মানের।এছাড়া রাঙ্গামাটিতে খাবার হোটেল পাবেন অনেক।কাপ্তাই লেক ঘুরে এসে সিএনজি চড়ে কাপ্তাই নতুন বাজারে এসেও দুপুরের খাবার খেতে পারেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here