“বাবা আমারে মারিসনা”, ছেলের প্রতি মায়ের আকুতি।

ma
ছবিঃ অসহায় মা
  • “তুই আমার বুকের দুধ খেয়ে মানুষ হইছিস,তুই আমার বুকে মারিসনা বাবা।এই কথা বলার পরও সে জুতা পায়ে আমার বুকে লাথি মারে-এ ব্যথা কত যে কষ্টের কি করে ভূলি বলেন।আমি যখন বেহুঁশ হয়ে যাই তারপরও সে আমাকে মেরেছিলো।এরকম কুলাঙ্গার সন্তান যেন আর কোন মা জন্ম না দেয়!”

বাবা আমারে মারিসনা ছেলের প্রতি মায়ের আকুতি ৬৫ বছর বয়সী ফরিদা বেগম যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো।

নিজ পেটের সন্তানের অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার ফরিদা বেগম এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

টাকা না দেওয়া মা’কে হত্যার চেষ্টা করে ফরিদুল ইসলাম নামের (৩৮) সেই ছেলে।বাবা আমারে মারিসনা ছেলের প্রতি মায়ের আকুতি

গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নং সার্জারি বিভাগের বি ইউনিটের ৩৪নং বেডে গিয়ে দেখা যায় ফরিদা বেগমের ক্ষত বিক্ষত শরীরের নানা অংশ।শরীরের ক্ষতের চেয়ে মনের ক্ষত তাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।নিজের পেটের সন্তানের হাতে নির্যাতন এর চেয়ে হতভাগা আর কি হতে পারে।কষ্টগুলো না পারছেন সইতে,না পারছেন কারও কাছে বলতে।

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মৃত মকবুল হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগম।

ফরিদা বেগম গণমাধ্যম’কে জানান তার স্বামী মকবুল আহমদ তাদের দুই ছেলে ফরিদুল ইসলাম মাসুদ ও ওমর ফারুক কর্তৃক মানসিক চাপের মুখে চার বছর আগে মারা যান। এরপর তারা আমার স্বামী এবং আমার ১৫ বিঘা জমি বিক্রি করে অর্থ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যায় করে ফেলে। এরপরও তারা আমার থাকার জায়গা তাদের নামে লিখে দিতে এবং টাকার জন্য আমার উপর নির্যাতন করে আসছে।তারা আমাকে গালিগালাজ করে প্রায়ই।আমি টাকা দিতে অস্বিকার করলে বড় ছেলে ফরিদুল ইসলাম মাসুদ পরিবার নিয়ে ঢাকা চলে যায়।আর ছোট ছেলে শশুর বাড়ি চলে যায়।

এই সময় ফরিদুল ও ছোট ছেলে যুক্ত করে ফরিদুল মোবাইলে আমাকে টাকার জন্য গালাগালি ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ঢাকা থেকে। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ ২০ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ির বাউন্ডারি টপকে বাড়িতে অবস্থান নেয়।আমি ইবাদত বন্দেগী করে বাহির হলে মাসুদ আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

সে গামছা ও পলিথিন দিয়ে আমার মুখে পেছিয়ে ধরে টাকা দাবি করে।আমি দিতে অস্বীকার করলে সে আমাকে রড দিয়ে মুখে,চোখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারতে থাকে।এক পর্যায়ে আমার দুইটা দাঁত ভেঙে যায়।নাক কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে তবুও সে আমার প্রতি দয়া দেখালোনা।

আরও পড়ুনঃ মায়ের কোলে চড়ে প্রতিবন্ধীর স্বপ্ন জয়। <> http://sonalikantha.com/মায়ের-কোলে-চড়ে-প্রতিবন্ধ/

সে জুতা পায়ে আমার বুকে এলোপাতাড়ি লাথি দিতে থাকে।আমি তাকে বলি তুই আমার বুকের দুধ খেয়ে বড় হইছিস,আমারে মারিসনা বাবা।আমারে ছেড়ে দে।তবুও তার দয়া হলোনা।সে পা দিয়ে গলা চেপে ধরে আমাকে হত্যা চেষ্টা চালায়।আমার চিৎকার শুনে আমার দেবর ঘটনাস্থলে আসলে পালিয়ে যায়।

বাবা আমারে মারিসনা ছেলের প্রতি মায়ের আকুতি কথাগুলো বলার সময় ফরিদা বেগমের চোখের জল শুকিয়ে যায়।সে শুধু আফসোস করে যে সন্তান তার বুকের দুধ খেয়ে বড় হলো,মানুষ হলো সেই সন্তান তার বুকে লাথি দিলো।তাকে হত্যা করার জন্য নির্যাতন করলো।

ফরিদা বেগম তার সন্তানের উপযুক্ত শাস্তি চান।

এই ঘটনার পর ফরিদা বেগমের বড় মেয়ে নাছরিন আক্তার থানায় বাদি হয়ে মামলা করেন।এখনও পুলিশ আসামি ধরতে পারেনি।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জানান আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here