হরিণের বিচরণ ভূমি নিঝুম দ্বীপ।

নিঝুম দ্বীপের হরিণ
ছবিঃ নিঝুম দ্বীপের হরিণ।(সংগৃহি)

হরিণের বিচরণ ভূমি নিঝুম দ্বীপ। বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে  রুপ বৈচিত্রে ভরা এক সৌন্দর্যের সমাহার। সুন্দরবন,কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত,পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন সেক্টর আজ জগত বিখ্যাত। ভ্রমন পিপাসু বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি দৃষ্টি নন্দন পরযটন কেন্দ্র নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক সাড়া জাগানো প্রাকৃতিক লীলাভূমির অঞ্চল নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ। এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ চরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।এছাড়া দলবদ্ধ হরিণের পাল দেখে যে কারও মন আনন্দে ভরে উঠবেই।নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য আপনার নিকট কিছুক্ষণ এর জন্য হয়ত ্মনে হবে এ যেন বাংলাদেশ নয়,প্রিথিবী ছেড়ে আপনি কোন স্বর্গ রাজ্যে অবস্থান করছেন। হরিণের বিচরণ ভূমি নিঝুম দ্বীপ।


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী খ্যাত নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যায়না।বঙ্গপসাগরের তীর ঘেঁসে প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্যের প্রমাণ নিয়ে  দাঁড়িয়ে থাকা এক সবুজের সমারোহ নিঝুম দ্বীপে হরিণ আর মহিষের হাজার পালের সাথে পর্যটকদের বিমুগ্ধ করে সাগরের গভীর থেকে ছুটে এসে আঁচড়ে পড়া ঢেউ গুলো ।


পাখির কিচিরমিচির আর সারি সারি গাছপালার সবুজায়ন পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং সৌন্দর্যের গভীর প্রেমে ফেলতে বাধ্য। লঞ্চ বা ট্রলারে চড়ে আপনি যখন নিঝুম দ্বীপ এর বিশাল সমুদ্র ও গাছপালার সৌন্দর্য লক্ষ্য করবেন তখন রুপ লাবণ্যে চোখ জুড়িয়ে যাবে।নিঝুম দ্বীপ পৌঁছার  কিছু দূরত্বে আপনি যখন দ্বীপটির দিকে তাকাবেন তখন মনে হবে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছোট্ট একটি দ্বীপ আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

আরও পড়ুনঃ ‘নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ। > https://sonalikantha.com/নৈসর্গিক-সৌন্দর্য-ঘেরা-ক/

আর দ্বীপের উপরে লক্ষ্য  করলে দেখবেন সূর্য আর রংধনুর রং যেন আকাশকে সাজিয়ে রেখেছে আপনারা বা আমরা দ্বীপে আসতেছি বলে। নিঝুম দ্বীপের বিশাল  চরের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা খেজুর গাছগুলো দেখে মনে হবে আরবের কোন মরুভূমি কিন্তু খানিক পরেই যখন সাগরের জলরাশির দিকে চোখ যায় তখন বুঝতে আর অসুবিধা নেই এইটা আমাদের সৌন্দর্যের রানী নিঝুম দ্বীপ।


গাছপালার ফাঁক দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় সত্যি গা চমচম করে উঠে।হাটতে হাটতে হঠাত হরিণের পাল দেখলে আনন্দের আর সীমা থাকেনা।হরিণেকে খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য যেন ভূলার মত নয়। নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের ওয়াচ টাওয়ার এর উপর থেকে দেখা দৃশ্য উপভোগ করার মত। বিকালে মহিষের পালের উপর পাখিদের উড়াউড়ি আর সবুজে ঘেরা গাছপালার দৃশ্য  সত্যি অসাধারণ ।


সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে আসে তখন নিঝুম দ্বীপ যেন নতুনভাব সৌন্দর্য ধারণ করে।একদিকে সবুজের লীলাভূমি অন্যদিকে সমুদ্র সৈকত তার মাঝে সাগরের বুকে সূর্যি মামার হারিয়েও যাওয়ার দৃশ্য েএই এক মনোমুগ্ধকর অনুভূতি। 

বিস্তার নোয়াখালী জেলা অন্তর্গত হাতিয়া উপজেলায়  অবস্থান নিঝুম দ্বীপের।দ্বীপটিরে আয়তন ১৬৩.৪৫ বর্গ কিলোমিটার বা ৬৩.১১ বর্গ মাইল।এর মধ্যে স্থল সীমানা ৩৮.৬৫ বর্গ কিলোমিটার বা ১৪.৯২ বর্গ মাইল।জলসীমা ১২৪.৮১ বর্গ কিলোমিটার বা ৪৮.১৯ বর্গ মাইল।প্রায় ১৪,০৫০ একর বা ৎ হেক্টর জায়গা জুড়ে নিঝুম দ্বিপের অবস্থান। নিঝুম দ্বীপের জনসংখ্যার পরিমাণ প্রায় ১৫০০ জন।

উৎপত্তির ইতিহাস বঙ্গপসাগরের কোল ঘেঁসে জেগে ওঠা চর গুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দ্বীপের নাম নিঝুম দ্বীপ। ।সবুজে ঘেরা এই দ্বীপটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চল্লিশ এর দশক বা মতান্তরে পঞ্চাশের দশকের শুরুতে এই দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া যায়।নয়াখালীর হাতিয়া এবং আশপাশের অঞ্চলের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেত।মূলত তখনই এই দ্বীপের সন্ধান পাওয়া যায়।


নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম চর ওসমান।ওসমান নামের এক বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে সেখানে যান এবং সেখানে বসতি গড়ে তোলেন ।সত্তরের দশকের শুরুতেই তিনি সেখানে বসতি গড়েন । সূত্রমতে ১৯৭০ সালের পূর্ব অবধি সেখানে কোন বসতি গড়ে উঠেনি।

অনেক শান্ত পরিবেশ হওয়ায় হাতিয়ার তৎকালীন সাংসদ আমিরুল ইসলাম এই চর ওসমান নাম পরিবর্তন করে নিঝুম দ্বীপ নাম গঠন করেন।বল্লার চর,চর  ওসমান,কমলার চর,চুরি-মুরি চর – এই চারটি চরের সমন্বয় গঠিত নিঝুম দ্বীপ। ৭০ এর দশকে বাংলাদেশ সরকার পরীক্ষামূলক চার জোড়া হরিণ নিঝুম দ্বীপে অবমুক্ত করেন.২০০১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার নিঝুম দ্বীপ কে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করেন।


জীবজন্তু ও বৃক্ষরাজি নিঝুম দ্বীপ হরিণ এর সমারোহ ।.১৯৯৬ সালের হরিণ শুমারি অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপের হরিণের সংখ্যা প্রায় ২২,০০০।বর্তমানে এই সংখ্যা ৩০ হাজার। হরিণ ছাড়াও নিঝুম দ্বীপে রয়েছে মহিষ ।নিঝুম দ্বীপে রয়েছে কেওড়া গাছ।এছাড়া সম্প্রতি বন বিভাগ নোনা ঝাউ গাছ রোপণ করেছে।গাছ পালার সৌন্দর্যের অপরুপ দৃশ্য ধারণ করা নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি এবং প্রায় ৪৩ প্রজাতির লতাগুল্ম ও ২১ প্রজাতির অন্যান্য  গাছ  রয়েছে। 


যাতায়াত এবং আবাসন ব্যবস্থা সাধারবণত শীতকাল শুরু থেকে শেষ অবধি নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।বছরের অন্য সময় গুলো সাগর বেশ উত্তাল থাকে তাই তখন নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ    ঝুঁকির হয়।

বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত হতে আপনি নিঝুম দ্বীপ যেতে হলে নোয়াখালীর মাইজদী শহর হয়ে সোনাপুর থেকে সিএনজি যোগে চেয়ারম্যান ঘাট এসে পৌছাতে হবে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়া যাওয়ার জন্য প্রতিদিন সকাল ৮টায় সি-ট্রাক,স্পীড বো্ট,ট্রলার পাবেন।

চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট যাওয়া যানবাহন গুলো আবার ফিরতি আসতে ছাড়ে সকাল দশটায় প্রতিদিন। নিঝুম দ্বীপের উদ্দেশ্যে  ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিটে একটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। বরিশাল ও ভোলা হয়ে হাতিয়া পৌঁছায় বিধায় লঞ্চটি হাতিয়ার তমরুদ্দি ঘাটে যেতে পরদিন সকাল ৮টা থেকে ৯টা বেজে যায়।

তমরুদ্দি ঘাট থেকে এবং নলচিরা ঘাট থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসতে হবে মক্তারিয়া ঘাটে ।তারপর মক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে বন্দরটিলা ঘাটে এসে মোটরসাইকেলে চড়ে নামার বাজার আসতে হবে। চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here