হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার।

হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার। আপনি কি ছাত্র অথবা চাকুরিজীবী? চাকরির আশায় ঘুরে ঘুরে হতাশ? আপনি কি নিজের হাত খরচ নিজেই চালাতে চান অথবা চান একদম শূন্য থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে?

হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে যদি হ্যাঁ বলে থাকেন তাহলে আমি বলবো এর সমাধান খুঁজতে আপনি সঠিক পোস্টটিই পড়ছেন। এই লেখায় আমি শেয়ার করবো এমন কয়েকটি উপায় যা আপনার হাতের মোবাইলেই লুকানো। আপনার দরকার হবে না কোন দামি ল্যাপটপ, দরকার নেই বাজারের ব্যায়বহুল টেক গেজেট।হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা দাঁড়িয়ে আছি অপার সম্ভাবনার সময়ে। প্রযুক্তির অবিরাম উৎকর্ষতা আমাদের সামনে এনে দিয়েছে সীমাহীন সুযোগ, কিছু করে দেখানোর। নিজেকে জাহির করার এক অনন্য মাধ্যম, এই ইন্টারনেটের সাগর থেকে চাইলেই আপনিও বের করে আনতে পারেন রত্ন। এর জন্য চাই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং নিষ্টা।হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার। সাথেই থাকুন একদম শেষ পর্যন্ত।

হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার।

ইন্টারনেট আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে হাতের মুঠোয় রেখে বিশ্বকে দেখার। দেশের এখন প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ ব্যবহার করে স্মার্টফোন। যার দরুন প্রায় অধিকাংশ মানুষই ব্যবহার করছে ইন্টারনেট। আর ইন্টারনেটেই আছে নানান আয়ের বৈধ উপায়। এখন মানুষ নিজের ঘরে বসে শুধুমাত্র হাতের মুঠোফোন ব্যবহার করেই আয় করতে পারে। আপনি যদি দৈনিক সময় বের করে কোন একটি কাজে দক্ষ হতে পারেন তাহলে আপনার নিজে হাত খরচের টাকা নিজেই তুলে আনতে পারবেন (৫-১০ হাজার টাকা) । আর যদি ফুল টাইম পেশা হিসেবে নিতে চান তাহলে ইনকাম করতে পারবেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বা তারও বেশি।

আরও পড়ুনঃ https://sonalikantha.com/ফেসবুক-থেকে-আয়-করার-কৌশল/

এর পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার শ্রম এবং  আপনার লেগে থাকার মানসিকতার উপর। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন ঝাঁপিয়ে পড়ি মূল আলোচনায়।

ফরেক্স ট্রেডিং

প্রথমেই বলে নেই ফরেক্স ট্রেডিং কি।  বিভিন্ন দেশের কারেন্সিকে একে অপরের সাথে ট্রেড বা বিনিময় করাকে ফরেক্স ট্রেডিং বলে। আর ফরেক্সটা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিনান্সিয়াল মার্কেট। এই মার্কেট আপনাকে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে ফরেক্স এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে সহায়তা করবে। এই মার্কেট থেকে একদম বৈধ উপায়ে অংশগ্রহণ করে আয় করতে পারবেন।হাতের স্মার্টফোনটি দিয়েই গড়ে ফেলুন ক্যারিয়ার। কিন্তু ফরেক্স শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে সময় লগ্নি করতে হবে। নাহলে এই সেক্টরে অল্পবিদ্যা আপনার জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। ফরেক্স নিয়ে শেখার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে। এদের মধ্যে www.bdforexpro.com অন্যতম। এখানে অনেক অভিজ্ঞ ট্রেডার আছে  আপনাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করার জন্য। দেশী বিদেশী বিভিন্ন ভাষায় ফরেক্স লেসন পেতে পারেন। ইংরেজীর ক্ষেত্রে www.babypips.com নির্ভরযোগ্য একটি ওয়েবসাইট। মোটামুটি ফরেক্স এর ব্যাপারে আয়ত্ত আসার পর মোবাইলে বিভিন্ন এপের মাধ্যমে ডেমো ট্রেডিং করতে পারেন। ডেমো ট্রেডিং করে আপনি নিজের অবস্থান ঝালাই করে নিতে পারবেন । এতে আপনার খরচ হবে না একটি পয়সাও। যেসব এপ দিয়ে ডেমো ট্রেডিং করবেন তাদের মধ্যে MetaTrader 5, etoro, The forexHours অন্যতম। গুগলের প্লে স্টোরে গিয়ে বিনামূল্যে নামিয়ে নিতে পারেন এপগুলো। আস্তে আস্তে যখন আপনি ট্রেডিং এর বিষয়টা আয়ত্তে এনে ফেলবেন তখন নেমে যেতে পারেন মূল ট্রেডিং এ। বিষয়গুলো প্রথমদিকে কিছু ঝামেলার ঠেকলেও পরবর্তিতে এনালাইসিস এবং স্ট্র্যাটেজি বিল্ড আপের মাধ্যমে আপনি আয় করে ফেলতে পারেন ট্রেডিং এর উপর। আপনার প্রশ জাগতে পারে, ফরেক্স এ ট্রেডিং থেকে আপনি কতটুকু ইনকাম করতে পারেন? অনেকে বলতে পারে ৫০ হাজার অনেকে শো অফ করে বলবে ৭০ হাজার। আমি বলবো, লেগে থেকে  ধৈর্য্য ধরে কাজ করতে পারলে মাসে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা কামাই করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

মোবাইলের বিভিন্ন এপের মাধ্যমে 

এই বিষয়টা নিয়ে অনেকের আছে রাজ্যের জিজ্ঞাসা। কিভাবে এপ নামাবো, কিভাবে ইনকাম করবো এমন অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে। সত্যি কথা বলতে গেলে আমি বলবো ,আপনি হয়তো অনেক টাকার মালিক হয়ে যাবেন কোন এপ ব্যবহার করে এমনটা না। ঐসব ভুঁইফোড় বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলুন। তবে আপনি দৈনিক এপের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করার মাধ্যমে মোটামুটি হাত খরচ চালানোর মত ইনকাম করে ফেলতে পারবেন। এমন বেশ কিছু এপের কথা আমি বলবো যেগুলো থেকে টাকা ইনকাম করতে পারেন তাদের টার্গেট পূরণ করে। এপগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলঃ
  • Champ Cash- Earn money
  • Google Opinion Rewards- Earn play store credit
  • AppBucks
  • WHAFF Rewards
  • TaskBucks
এই এপগুলো গুগল প্লে স্টোরে সার্চ করে নামিয়ে নিতে পারেন। এপগুলোতে বিভিন্ন ভাবে ইনকাম করার অপশন আছে। যেমন, Appbucks app তে; এপ ইনস্টল করে বন্ধুদের রেফার করে, ডেইলি ভিজিট করে এমনকি ভিডিও দেখে পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন। যেগুলোকে টাকায় কনভার্ট করে ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া, গুগল প্লে স্টোরে এপটির ব্যাপারে রিভিউ দিয়ে পেয়ে যেতে পারেন ৫ ডলার। Truebalance Android App এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন ফ্রি রিচার্জ। Champ cash এর মাধ্যম তিনটি উপায়ে ইনকাম ট্রান্সফার করতে পারবেন আপনার কাছে। যেমন, Direct Bank Transfer এর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০ ডলার থাকতে হবে আপনার একাউন্টে, তবেই টাকা তুলতে পারবেন। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, মোবাইল রিচার্জ করানোর মাধ্যমে এবং সর্বশেষ পদ্ধতিটি Paypal/ Payza ব্যবহার করে।

ইউটিউব

মোবাইল এর মাধ্যমে ইনকাম করার সবথেকে জনপ্রিয় উপায় বর্তমানে এই ইউটিউব প্লাটফর্ম। বিশ্বের সবথেকে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট এই ইউটিউব। আপনি ইচ্ছে করলেই বিনামূল্যে খুলে ফেলতে পারেন চ্যানেল। চ্যানেলে দর্শকের চাহিদা এবং আপনার তৈরী কন্টেন্ট এর মান এর উপর ভিত্তি করে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকবে চ্যানেলের। এক্ষেত্রে আপনাকে মানসম্পন্ন কন্টেন্ট বানাতে হবে। যেটা আপনি করতে পারেন কোন হাই স্পেসিফিকেশনের ইকুইপমেন্ট ছাড়াই। আপনাকে ভিডিও বানানোর একটা আলাদা Topic ঠিক করে নিতে হবে। যেটা মাধ্যমে আপনি আপনার দর্শকদের কাছে কন্টেন্ট পৌঁছাতে পারবেন। যেমন আপনার Topic হতে পারে কোন মজার ভিডিও কন্টেন্ট, হতে পারে কোন সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট, গানের চ্যানেল, কাভার, কোন টিউটোরিয়াল, কোন কিছুর রিভিউ, রান্নার ভিডিও, কোন প্র্যাংক ভিডিও সহ এমন যেকোন কন্টেন্ট যেটাতে আপনার দক্ষতা তৈরী হবে। এজন্য আপনাকে নিয়মিত ভিডিও তৈরী করে যেতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন দামী ক্যামেরা ছাড়া কিভাবে ভিডিও করবো। বিশ্বাস করুন, দেশের অধিকাংশ ইউটিউব চ্যানেল যেগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা একসময় মোবাইল দিয়েই ভিডিও তৈরী করতো। তাদের কন্টেন্ট যখন আস্তে আস্তে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে তখন তারা নিজেদের সামর্থ অনুযাযী বিনিয়োগ করেছে। যার ফলাফল হিসেবে, চ্যানেল মনিটাইজ করার মাধ্যমে তারা ইনকাম করছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ। আপনার ভিডিও এবং চ্যানেলকে দর্শকদের নজরে আনতে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে, লিংক শেয়ার করে ভিউ বাড়াতে পারেন। আস্তে আস্তে আপনার যতগুলো ভিডিও বের হবে সেই সাথে ভিউ এবং সাবস্কাইভার বাড়তে থাকবে। এবং ওয়াচটাইম বাড়বে একই অনুপাতে। এভাবে যখন আপনার চ্যানেলে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হবে এবং ওয়াচটাইম হবে চার হাজার ঘন্টা তখন আপনি চ্যানেল মনিটাইজ করতে পারবেন। এর ফলে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে  আপনার ভিডিওতে বিভিন্ন এড শো করিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনার জনপ্রিয়তা এবং ভিডিও এর ওয়াচটাইমের উপর নির্ভর করে আপনার একাউন্টে জমা হতে থাকবে অর্থ। যদি আপনার কোন কন্টেন্ট ভাইরাল হয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে আপনি হয়ে যেতে পারেন কোন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব । এভাবেই আপনার হাতের মোবাইল থেকে শুরু করে দিতে পারেন কার্যক্রম। শুধু দরকার আপনার পূর্ণ স্বদিচ্ছার।

পরিশেষে

এটাই বলবো, আপনার হাতের এই ছোট্ট ডিভাইসটির ক্ষমতা অনেক। ইন্টারনেটের যুগে নিজে কিছু করতে চাইলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। যেটা আপনাকে দেবে ভবিষ্যতের নির্ভরতা। এই পোস্টের মাধ্যমে অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে অর্থ উপার্জনের কয়েকটি উপায়ের কথা বললাম। আশা রাখি, ইনকাম করার বাকি আরো অনেক উপায়ের কথা ধারাবাহিকভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারবো। চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

লিখেছেন রাজন রায়

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here