মোঃ অলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা:
রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে অবৈধ দোকানপাটের কারণে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ঢাকার অন্যতম প্রধান গণপরিবহন হাব কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই সংকট চরমে পৌঁছেছে। স্টেশনের মূল ফটক, প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন সীমানা প্রাচীর, টিকিট কাউন্টারের সামনের সড়ক এবং জসিমউদ্দীন রোডের সংযোগস্থলের ফুটপাত পুরোপুরি হকারদের দখলে চলে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে প্রধান সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন হাজার হাজার যাত্রী ও পথচারী।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের আশপাশের ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে পোশাক, জুতা, শাকসবজি, ফলমূল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, প্রসাধনী ও প্লাস্টিকের হরেক রকমের ভাসমান দোকান। কোথাও কোথাও চা চপের দোকান ও অস্থায়ী খাবারের হোটেল তৈরি করে স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। ফুটপাত পেরিয়ে অনেক স্থানে মূল সড়কের এক থেকে দুই ফুট অংশ দখল করে পণ্য সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর স্টেশন দিয়ে দৈনিক গড়ে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। ঈদ বা ছুটির মৌসুমে এই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। ট্রেনের আগমণ ও প্রস্থানের মুহূর্তে স্টেশন চত্বরে এক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার উপায় না থাকায় লাগেজ, ব্যাগ ও কোলে শিশু নিয়ে যাত্রীরা দ্রুতগামী বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার পাশ কাটিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। এতে ছোট বড় দুর্ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
কমলাপুর স্টেশন এলাকার ফুটপাতে এ ধরনের অবৈধ দখলের পেছনে স্থানীয় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী চক্র ও কতিপয় অসাধু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফুটপাতে এক একটি চৌকি বা পশরা বসাতে তাদের মোটা অঙ্কের ‘লাইনমান’ ও দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে হয়। জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই তারা এই টাকা দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। এক হকার জানান,পেটের তাগিদেই আমরা এখানে বসি। তবে সরকার যদি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো হলিডে মার্কেট বা বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করত, তবে পথচারীদের কষ্ট দিয়ে এভাবে ব্যবসা করতে হতো না।
ভোগান্তির শিকার এক ট্রেন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,টিকিট কেটে স্টেশনে ঢুকতে গিয়েই ফুটপাতের ভিড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। সাথে ব্যাগ আর পরিবার থাকলে তো বিপদের শেষ নেই। সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে গা ঘেঁষে গাড়ি চলে যায়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও অভিযান শেষ হতে না হতেই আবার পূর্বের রূপ ফিরে পায় ফুটপাত।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জিরো টলারেন্স নীতি ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনা। কমলাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত মনিটরিং ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা।
পথচারীদের জন্য ফুটপাত পুরোপুরি বাধামুক্ত রাখা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা।
নির্দিষ্ট সময় বা স্থানে (যেমন: বন্ধের দিনগুলোতে নির্দিষ্ট খালি জায়গায়) হলিডে মার্কেট' চালুর মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধিত ও নিয়মতান্ত্রিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
কমলাপুর এলাকাকে যানজট ও জনভোগান্তিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কার্যকরী ও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।
এ জাতীয় আরো খবর..