জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রচলিত মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন ও ভিন্নমাত্রার বই যুক্ত করতে যাচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
১. নতুন চার পাঠ্যবইয়ের বিস্তারিত পরিচিতি
চারটি বই মোট ১ কোটি ৫০ লাখ কপি মুদ্রণ করা হবে এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক. চতুর্থ শ্রেণি: ‘খেলাধুলা’ (১৪টি অধ্যায়)
মূল উদ্দেশ্য: শৈশব থেকেই সুস্থ জীবনধারা, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মরক্ষা ও ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা।
বিষয়বস্তু: ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবাসহ বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়ম।
বিশেষ সংযোজন:
কারাতে, জুডো ও তায়েকোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষামূলক কৌশল।
কেটে যাওয়া, মচকানো বা হিট স্ট্রোকের মতো জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসার ছবিসহ বাস্তব নির্দেশনা।
‘স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়া’ নামক অনুপ্রেরণামূলক গল্প, যেখানে গ্রাম থেকে উঠে আসা বালিকা ফুটবল দলের জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
খ. চতুর্থ শ্রেণি: ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ (১১টি অধ্যায়)
মূল উদ্দেশ্য: দেশীয় সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটানো।
বিষয়বস্তু: ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।
বিশেষ সংযোজন:
বাবা-মায়ের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গৃহস্থালির পারস্পরিক সহযোগিতার আধুনিক রূপ।
১৯৭৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার ইতিহাস ও দুর্লভ ছবি।
গ. ষষ্ঠ শ্রেণি: ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (৬টি অধ্যায়)
মূল উদ্দেশ্য: পড়াশোনাকে ভীতিহীন ও আনন্দময় করা; পাঠ্যভার কমানো।
শিক্ষা দর্শন: পরীক্ষা বা মুখস্থবিদ্যার বদলে আনন্দঘন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে শেখা।
ঘ. ষষ্ঠ শ্রেণি: ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ (৮টি অধ্যায়)
মূল উদ্দেশ্য: ‘আমি কী জানি’ তত্ত্বের বাইরে গিয়ে ‘আমি কী করতে পারি’—শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তবমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় স্বাবলম্বী করা।
বিষয়বস্তু: কারিগরি পরিচয়, নতুন প্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, টেকসই জীবনযাপন ও খুদে উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রাথমিক ধারণা।
২. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের বক্তব্য অনুসারে:
‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বিষয় দুটি ভবিষ্যতে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বিষয় দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যুক্ত করা হবে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাকগ্রাউন্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাবিদদের কনসালটেশন এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই এনসিটিবি এসব বই প্রণয়ন করেছে।
৩. সারসংক্ষেপ তথ্য তালিকা
| শ্রেণির নাম | বইয়ের নাম | অধ্যায় সংখ্যা | মূল ক্ষেত্র | ||
| চতুর্থ শ্রেণি | খেলাধুলা | ১৪টি | ক্রীড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা ও আত্মরক্ষা | ||
| চতুর্থ শ্রেণি | বাংলাদেশের সংস্কৃতি | ১১টি | ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও ইতিহাস | ||
| ষষ্ঠ শ্রেণি | লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস | ৬টি | ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখন পদ্ধতি | ||
| ষষ্ঠ শ্রেণি | আমার কারিগরি শিক্ষা | ৮টি | কারিগরি দক্ষতা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ |