×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-৩১
  • ২৮ বার পঠিত

রূপপুর প্রতিবেদকঃ

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে জ্বালানিবাহী বিশেষ লরিগুলো রূপপুর প্রকল্প প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

এর পূর্বে গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে এক বিশেষ বিমানে ইউরেনিয়ামের এই চালানটি রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে। অতঃপর আজ শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে বিমানবন্দর থেকে মোট তিনটি লরিতে করে এই জ্বালানি পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পুলিশ প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সড়কপথে ইউরেনিয়াম পরিবহনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এই সর্বাত্মক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। একই সাথে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংযোগস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়। এই বিশেষ পরিবহনের সময় রাজপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে সব ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গোর মাধ্যমে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের স্বার্থে দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে। সেই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আজ শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের এই চতুর্থ চালানটি রূপপুরে পৌঁছাল।

আসন্ন নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাশিয়া থেকে পর্যায়ক্রমে আরও সাতটি বিশেষ ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের পরবর্তী চালানগুলো দেশে পৌঁছানোর সূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি বাংলাদেশে আসে। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের মধ্যে আরও চারটি পৃথক চালানে সেই জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম ইউনিটের মূল পারমাণবিক চুল্লিতে সফলভাবে জ্বালানি স্থাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ওই চুল্লিতে ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ নতুন করে পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে। সেই উদ্দেশ্যেই চলতি মাসের ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি নতুন চালান রূপপুরে পৌঁছায়।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানির দ্বিতীয় চালানটি ২১ অক্টোবর সকালে এবং তৃতীয় চালানটি গত ২৭ অক্টোবর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে পৌঁছেছিল।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে, শুরুর প্রথম তিন বছর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি পুরোপুরি সরবরাহ করবে রাশিয়া। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর অন্তর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে নিজস্ব উদ্যোগে তা আমদানি করতে হবে। উল্লেখ্য, সুবিশাল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ট্রায়াল রান) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন প্রকল্পের নীতি নির্ধারকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat