জাতীয় ডেস্ক:
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক টিআইবির সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি গবেষণাপত্রটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রতিবেদনে উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট তথ্যাবলীর সপক্ষে নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে।
আরপিও ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব:
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দলীয় সকল স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু টিআইবি জানায়, জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ মেয়াদের ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
‘স্বতন্ত্র কমিটি’ ব্যবস্থা ও টিআইবির পর্যবেক্ষণ:
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি ও আলাদা মজলিসে শুরা পরিচালনার যে দাবি জামায়াত করেছে, তাকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি। সংস্থাটি উল্লেখ করে, শীর্ষ নেতৃত্ব বা মূল পদে নারীকে না রেখে আলাদা গণ্ডির মধ্যে রাখলে রাজনীতিতে নারীদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। এমনকি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জামায়াত কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি।
সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্রের বিরোধ:
টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
টিআইবি স্পষ্ট করেছে যে, বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করেই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ফলে প্রকাশিত তথ্যকে অসত্য বলার কোনো সুযোগ নেই। টিআইবি জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে এই গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনা করে নিজ নিজ দলে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সুশাসন সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।