মামুন মিঞা, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্য ও এক সেনাসদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশব্যাপী ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামের চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪), খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা ও ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকার ভাড়াটিয়া চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫) এবং তাঁদের সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬)।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসেরহাট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করেন চক্রের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের একজন সহযোগীকে হাতকড়া পরিয়ে ইজিবাইকের চালককে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। পরে পথিমধ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যান তাঁরা।
এ ঘটনায় ইজিবাইকচালক শহিদুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ চক্রের অন্যতম সদস্য লিমন মিয়া ও তাঁর সহযোগী সাখাওয়াত মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, লিমন মিয়ার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের শ্যামপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক আইনে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঢাকার শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১২ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে ডাকাতির ঘটনায়ও তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় একটি ইয়ামাহা ১৮০ সিসি মোটরসাইকেল ও নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, এই চক্রের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..