জকিগঞ্জ (সিলেট) সংবাদদাতা:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের হরাইত্রিলোচন গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আব্দুল জলিলের ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রবিবার দিবাগত (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুমান রাত ১১টার পরে কোনও এক সময় এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিশারির মালিক আব্দুল জলিল।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল জলিল বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের প্রতিবেশী সাইফুল আলম ও আব্দুল গফফার আমার ৬ বিঘা ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমার ক্ষতি করার পাঁয়তারা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। গত রবিবার উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার ব্রিকস-ফিল্ডের পাশের একটি ফিশারি সেচ করে মাছ বিক্রির পর রাত অনুমান ১১টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ফিশারি পাড়ে বিবাদী সাইফুল আলম সহ কয়েকজনকে দেখতে পাই। ওইসময় কে? জানতে চাইলে কিছু না বলে দৌড়ে পালিয়ে যায় ওঁরা। আমি বাড়িতে চলে গেলে তারা ফিরে এসে ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করে।
তিনি আরো বলেন, তাদের সাথে আমার বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলেছে। আমাকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি করতে পরিকল্পিত ভাবে আমার ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করেছে প্রতিপক্ষ। আমি এক্ষতি কিভাবে সামলে উঠবো জানিনা! এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল দায়ের করেছি, এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রশাসনসহ দেশবাসীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল জলিল।
এ ব্যাপারে বিবাদী পক্ষের ফখরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আব্দুল জলিলের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। গ্যাসের কারণে এলাকার বিভিন্ন পুকুরে এমনই মাছ মরছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কালাম আজাদ ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের জায়গায়-জমি সংক্রান্ত একটি বৈঠক থেকে আসার পথে আব্দুল জলিল পুকুরের মরা মাছগুলো দেখিয়েছেন। একে-অপরকে ফাঁসানোর জন্য পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছেন না আব্দুল জলিলকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন জানি না। তবে যে বা যারা করেছে এটা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।