বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ফৌজদারি মামলার আসামি, দুর্নীতিবাজ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ও বিচারধীন দণ্ডিত ব্যক্তিরা যেন প্রতিবেশী দেশটিতে নিরাপদে অবস্থান করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা কোনো ধরনের গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো তাগিদ দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের কাছে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা মাহ্দী আমিন।
রাজধানীর কূটনৈতিক জোনে আয়োজিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান গতিপ্রকৃতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংবেদনশীল দিক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হয়, যেখানে মাহ্দী আমিন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, পলাতক অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা এবং সীমান্তপারের সব ধরনের সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা উসকানিমূলক তৎপরতা সম্পূর্ণরুপে রোধ করা উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই অত্যন্ত অপরিহার্য।
বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর অপরাধী প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদার করা এবং দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী অগ্রগতি বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
সর্বোপরি, বিগত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পলাতক আসামিদের বৈদেশিক মাটি ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে বর্তমান প্রশাসনের এই ধরনের দৃঢ় কূটনৈতিক তৎপরতা জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।