আব্দুল মজিদ,ঠাকুরগাঁও থেকে:
২মার্চ: শীতপ্রবণ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো ধান আবাদে এবার কিছুটা দেরি হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে ধান রোপণের কাজ পিছিয়ে যায়, যা কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেরিতে শুরু হলেও এখন জেলার মাঠগুলোতে কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলায় ৬২,২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৪৫,৫২০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ হয়েছে। তবে লক্ষ্য মাত্রা কিছু দিনের মধ্যেই পুরোন হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সার, বীজ, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরির দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষের খরচ অনেক গুণ বেড়েছে। ফলে কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঝাড়গা গ্রামের কৃষক এলাহী বলেন, “আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করছি। এর মধ্যে ৬ বিঘা জমিতে ব্রিধান-২৯ লাগানো হয়েছে। তবে চাষের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সার, মজুরি ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমরা আর্থিক চাপে আছি। তাই সরকার যেন ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে।”
পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক ইসলাম জানান, “আমি ২ একর জমিতে বোরো চাষ করছি, এর মধ্যে ১ একরে ব্রিধান-৫৮ লাগিয়েছি। বাকি জমিতে এখনো রোপণের কাজ চলছে। যদি ফলন ভালো হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাই, তাহলে লাভবান হতে পারবো।”
আওলিয়াপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. আনিছুর বলেন, “১২ বিঘা জমিতে বোরো রোপণ করছি। চাষের জন্য ইতোমধ্যে প্রচুর টাকা ব্যয় হয়েছে। যদি ধানের সঠিক দাম না পাই, তাহলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই আমরা সরকারের কাছে ধানের ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা চাই।”
কৃষকদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের দাম কম থাকায় অনেকেই বিকল্প ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ভুট্টা ও মরিচ চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক বোরোর পরিবর্তে এসব ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. আলমগীর কবির বলেন, “আমরা কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা অধিক ফলন পেতে পারেন। এছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।”
ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য পান, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা পান এবং সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত হয়, তাহলে তাদের জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি, পুরো জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সরকার যদি ধানের সঠিক দাম নিশ্চিত করে, তাহলে কৃষকরা আবারও বোরো চাষে আগ্রহী হবেন এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।