×
সদ্য প্রাপ্ত:
ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর, খসড়া চুক্তি অনুমোদন সংরক্ষিত এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা মিরপুরের সংঘর্ষে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব আগামী দুই মাসে আসছে ১৯ কার্গো এলএনজি: পেট্রোবাংলা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-০১
  • ১৪১ বার পঠিত

শরণখোলা বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

প্রচলিত ওষুধে কাজ না করায় বাড়ছে ভোগান্তি; নারী–শিশুই বেশি আক্রান্ত, একসঙ্গে চিকিৎসা না নেওয়ায় ছড়াচ্ছে আরও দ্রুত

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে স্কাবিস, অ্যালার্জি, চুলকানি, দাদ ও একজিমার মতো ছোঁয়াচে চর্মরোগ। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক, ফার্মেসি মালিক এবং ভুক্তভোগীদের মতে, এলাকায় এখন প্রায় 'মহামারী' পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিশু থেকে বয়স্ক—বেশিরভাগ পরিবারেই এখন এক বা একাধিক সদস্য চর্মরোগে আক্রান্ত।

রাজাপুর, আমড়াগাছিয়া, তাফালবাড়ি, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের চিকিৎসাকেন্দ্র ও ফার্মেসিগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আক্রান্ত মানুষজন। স্থানীয় চিকিৎসকদের ভাষ্য, দাদ ও স্কাবিস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত ওষুধে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। বারবার চিকিৎসা পরিবর্তন করলেও রোগ কিছুদিন পরই আবার ফিরে আসছে।

রায়েন্দা ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের স্কুলছাত্রী মিম আক্তার (১২) পাঁচ মাস ধরে একজিমায় ভুগছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও একাধিক পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েও কোনো উন্নতি নেই। পায়ের পাতায় ঘা হয়ে যাওয়ায় তীব্র যন্ত্রণায় হাঁটাচলাতেও কষ্ট হচ্ছে তার।

একই গ্রামের সামছুন্নাহার বেগম (৬০), মুন্নি আক্তার (৪০), ফেরদৌসী বেগম (৪২) ও শাহী মোহাম্মদ (১৫) জানান, কয়েক বছর ধরে তাদের শরীরেও চুলকানি ও দাদ বারবার দেখা দিচ্ছে। ফ্লুকোনাজল, ইট্রাকোনাজলসহ বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজাপুরের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শহরেও একই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা কেউই বুঝতে পারছে না।

রায়েন্দা হাসপাতাল গেটের আল মদিনা ফার্মেসির মালিক রিয়াজ মাহমুদ সোহাগ জানান, প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ চর্মরোগের ওষুধ কিনতে আসছেন। ওষুধ খেলে কয়েকদিন ভালো থাকলেও পরে আবার একই সমস্যা দেখা দেয়, বলেন তিনি।

হেনা ফার্মেসির মালিক নাজমুল হুদা বলেন, চুলকানি, স্কাবিস ও দাদ এখন মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, বেশিরভাগ চর্মরোগ ছোঁয়াচে হওয়ায় একজন আক্রান্ত হলেই পরিবারের বাকিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপ্লব কুমার সাধক বলেন, প্রতিদিনের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাই নারী ও শিশু। পরিস্থিতি দিনদিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে পুকুর ও নদীর পানি ব্যবহারের কারণে স্কাবিস ও দাদ জাতীয় রোগ বাড়ছে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে সঠিক নিয়মে চিকিৎসা না নিলে পুরো পরিবারই আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে কয়েকদিন চিকিৎসা নিয়ে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে ওষুধ রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় এবং পরে ওষুধ আর ভালোভাবে কাজ করে না। তাই পরিবারের সবাইকে একই সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া এবং পোশাক–বিছানাপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat