আসন্ন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। দেশের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই মাসে মোট ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে ১০ কার্গো এবং নভেম্বরে ৯ কার্গো এলএনজি দেশে এসে পৌঁছাবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বক্তব্য:
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বাসসকে জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এলএনজিবাহী কার্গো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা অনুযায়ী মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করার ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে পরবর্তী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এতে করে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না।”
আমদানির রূপরেখা ও উৎস:
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা যায়, আগামী দুই মাসের জন্য সংগৃহীত ১৯ কার্গো এলএনজির মধ্যে রয়েছে:
অক্টোবর মাস (১০ কার্গো): স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
নভেম্বর মাস (৯ কার্গো): দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৬ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৩ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি থাকে। সে হিসাবে এই ১৯ কার্গোর মাধ্যমে মোট প্রায় ৬ কোটি ৮ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি জাতীয় গ্রিডের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আমদানির পর এসব এলএনজি দেশের টার্মিনালে পুনঃগ্যাসীকরণের (রিগ্যাসফিকেশন) মাধ্যমে পাইপলাইনের সাহায্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের বিভিন্ন খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ জাতীয় আরো খবর..