সীমান্ত পেরিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতে থাবা বসিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্র। মাত্র ২২,০০০ ভারতীয় রূপি (প্রায় ৩০,০০০ টাকা) এবং সময়সীমা মাত্র ১ দিন—এই বিনিময়েই ভারতের কলকাতা কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের হাত ধরে পাওয়া যাচ্ছে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি। তদন্তকারী সংস্থা ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ভুয়া সনদের জেরে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য সৃষ্টি হয়েছে।
কাগজপত্র জমা ও ১ দিনের সার্ভিস: কলকাতার ভুয়া কনসালটেন্সি ফার্ম ও প্রেসগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে ছবি, নাম ও জাতীয় পরিচয়ের কপি সংগ্রহ করে ১ দিনের মধ্যে বিখ্যাত কিছু কাল্পনিক ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে মেডিকেল সনদ তৈরি করে দেয়।
বিএমডিসি (BMDC) সার্ভার ও জালিয়াতি: তদন্তে দেখা গেছে, কেবল সনদ তৈরিতেই ক্ষান্ত নয় এই চক্রটি। অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল' (BMDC)-এর অফিসিয়াল ডাটাবেজেও এই নকল রেজিস্ট্রেশন নম্বর সাময়িকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কিউআর কোড বা ওয়েবসাইট যাচাই করলেও এসব ভুয়া ডাক্তারদের তথ্য সঠিক দেখায়।
বিশাল নেটওয়ার্ক: তথ্যমতে, সারাদেশে অন্তত ১০,০০০ এরও বেশি ভুয়া চিকিৎসক ভুয়া লাইসেন্স ও জাল ডিগ্রি ব্যবহার করে নিয়মিত চেম্বার ও অস্ত্রোপচার পরিচালনা করে আসছেন।
| বিবরণ | অনুসন্ধানের তথ্য |
| সনদের মূল্য | ২২,০০০ ভারতীয় রুপি |
| প্রয়োজনীয় সময় | ২৪ ঘণ্টা (১ দিন) |
| মূল হটস্পট | কলকাতা (ভারত) এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সীমান্ত অঞ্চল (বাংলাদেশ) |
| প্রধান ভুক্তভোগী | দেশের প্রান্তিক ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ রোগীরা |
| আইনি ঝুঁকি | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং বিএমডিসি আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ |
১. চিরুনি অভিযান: পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সারাদেশের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া ডাক্তারদের বিএমডিসি নম্বর যাচাইয়ের চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
২. ডাটাবেজ ও সাইবার সিকিউরিটি: বিএমডিসি কতৃপক্ষ তাদের সার্ভারে 'গম্ভীর নিরাপত্তা ত্রুটি' থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং ডিজিটাল সিস্টেম পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: ভারতীয় পুলিশ এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় কলকাতার পেছনের হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও কঠোর পরীক্ষা এড়াতে অসাধু চক্রগুলো এই শর্টকাট পথ বেছে নিচ্ছে। এটি কেবল আইনি অপরাধ নয়, দেশের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বড় আকারের ট্রাস্ট ক্রাইসিস বা অনাস্থা তৈরি করছে। ভুয়া সনদে চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রোগী পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।