রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রশাসন ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার পুরোনো ও চেনা ধারায় ফিরে গেছে বলে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও জোরালো অভিযোগ উত্থাপন করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলাম।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সমাবেশে দেশের বর্তমান ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার নানা অপচেষ্টা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে বিএনপি যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও একক আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকারের প্রতি এক বড় ধরনের মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নীতিনির্ধারক মহল এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে আরও যোগ করেন যে, জনগণের দীর্ঘ লড়াই, রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার যেকোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য চক্রান্ত এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য থেকে কোনো অপশক্তিই আর বিন্দুপরিমাণও পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সংঘাতমূলক রাজনীতির পরিবর্তে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করা না হলে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চরম অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কালো ছায়া নেমে আসতে পারে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এক বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।