বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতি এবং জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সফর ও ভাষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাদের নিজ নিজ শাসনামলে ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, নির্বাসিত জীবন এবং নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে এবার সেই ঐতিহাসিক ধারায় যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তর, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রদর্শন তুলে ধরবেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে প্রধান বিরোধী দল বা দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতার এই উপস্থিতি বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক, রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে তুলে ধরার এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি নেতৃত্ব।