মোঃ মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের মির্জাপুরে ঐতিহ্যবাহী "গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ও পণ্য মেলার নামে অবাধে চলছে অবৈধ র্যাফেল ড্র। প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি ২০/৯/২০২৬ মেলাটি একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হলেও, রহস্যজনকভাবে ২১/৯/২০২৬ মেলাটি আবার চালু হয়েছে। এতে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মেলা নয়, মূল উদ্দেশ্য লটারি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুটির শিল্প ও দেশীয় পণ্য প্রসারের কথা বলে মেলার অনুমোদন নেওয়া হলেও মূল প্রাঙ্গণে হস্তশিল্পের অস্তিত্ব মেলা ভার। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতে নামমাত্র কয়েকটি স্টল সাজানো হলেও মেলার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ২০ টাকার প্রবেশ টিকিট ও লটারির হাঁকডাক। টিকিটের সাথে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভ দেখিয়ে প্রতিদিন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ ও দর্শনার্থীদের পকেট কেটে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ডিজিটাল কারচুপি ও সিন্ডিকেটের খেলা
মেলায় লটারির ড্র-তে আকর্ষণীয় পুরস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ তার কিছুই পায় না। সিন্ডিকেটের কব্জায় বড় পুরস্কার: লটারিতে ঘোষিত মোটরসাইকেল বা মেগা পুরস্কারগুলোর বিজয়ী কুপন আগে থেকেই পরিচালনা কমিটির নিজস্ব লোক বা সিন্ডিকেটের কাছে রাখা থাকে। অনেক সময় সম্পূর্ণ ভুয়া কুপন নম্বর বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে ড্র সম্পন্ন করা হয়।
আইন এড়াতে লোকদেখানো পুরস্কার: সাধারণ মানুষের চোখ ধাঁধাতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে নামমাত্র মূল্যের দুই-একটি ছোট প্লাস্টিক সামগ্রী বা ঘড়ি সাধারণ দর্শনার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রিকশাচালক ও দিনমজুরদের পকেট খালি
প্রতিদিন রাতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে লটারির ড্র আয়োজন করে ভাগ্য বদলের রঙিন স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। এই প্রলোভনে পড়ে দরিদ্র রিকশাচালক, দিনমজুর ও গ্রাম এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত শেষ সম্বলটুকুও মেলা কমিটির হাতে তুলে দিচ্ছেন। দিনশেষে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছেন তারা।
প্রশাসনের ধোঁয়াশাপূর্ণ বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় প্রবেশ টিকিটের ওপর পুরস্কার দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।" তবে একদিন বন্ধ থাকার পর কোন প্রক্রিয়ায় বা কী শর্তে আজ ফের এই বিতর্কিত মেলা ও লটারি চালু হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
কঠোর পদক্ষেপের দাবি
গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা ও দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর ছদ্মবেশে এমন প্রতারণা ও জুয়ার ব্যবসা মেলার মূল উদ্দেশ্যকেই কলঙ্কিত করছে। একদিন বন্ধ থাকার পর আজ পুনরায় চালু হওয়ায় মেলার পেছনে থাকা প্রভাবশালী চক্রের ভূমিকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই অনৈতিক লটারির ফাঁদ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা এবং প্রতারক চক্র ও অসাধু পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপর জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ জাতীয় আরো খবর..