সোনালী কন্ঠ ডেস্কঃ
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার আলোকে ঋণ লেনদেন, অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সুদভিত্তিক অর্থনীতির অশুভ পরিণতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতি ও শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী, মানবতা ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে সুদ নির্মূল এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভাবগ্রস্তদের অবকাশ ও ক্ষমার মহিমা:
কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২৮০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ঋণগ্রহীতা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ বা সময় দিতে হবে। ইসলামি আইনশাস্ত্র ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সুদখোরদের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে পাওনা আদায় করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বরং কোনো খাতক বাস্তবিকই নিঃস্ব ও ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে চাপ না দিয়ে সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঋণ পুরোপুরি ক্ষমা বা সদকা করে দিলে তা দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত কল্যাণকর ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে গরিব ও অসহায় ঋণগ্রহীতাকে সময় দানকারী বা ঋণ মাফকারীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
সুদের ভয়াবহ পরিণতি ও অবৈধতা:
সুদভিত্তিক কারবার মানবসমাজে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ সৃষ্টি করে। ইসলামে সুদের অবৈধতা ও এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। সুরা আল-বাকারার ২৭৫ থেকে ২৮০ নম্বর আয়াতের তাফসির ও বিভিন্ন হাদিস অনুযায়ী—
হাশরের ময়দানে শাস্তি: হাশরের ময়দানে সুদখোর ব্যক্তি এমন এক উন্মাদের মতো উত্থিত হবে, যাকে শয়তান আসর করে দিশেহারা করে দিয়েছে।
রাসূলের অভিশাপ: সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের হিসাব রক্ষক এবং এর সঙ্গে জড়িত সাক্ষীদের ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) অভিশাপ বা লা'নত করেছেন।
পরকালীন আযাব: বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিসে (যেমন বুখারী শরীফের বর্ণনায়) বারজাখ বা কবরের জীবনে সুদখোরদের জন্য রক্তের নদীতে সাঁতার কাটা এবং মুখে পাথর নিক্ষেপের মতো কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
অর্থনৈতিক লেনদেনে মানবিকতা প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সুদযুক্ত শোষণমূলক কারবার পরিহার করার মাধ্যমেই কেবল একটি শান্তিময় ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।