×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৫
  • ৪৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:

আলোচিত ৩০ মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’র পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আসামি গাজীপুর থেকে নয়, বরং পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছিলেন। এই পলায়নের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং এ পর্যন্ত পিচ্চি রাজার বোনসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব তথ্য জানান।

  • পরিকল্পিত পলায়ন ও ঘটনাস্থল পরিবর্তন: পুলিশ কমিশনার জানান, ২৯ জন আসামিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টির প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে ভ্যানটি ঢাকার তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসে থামে।

  • এসআই প্রবীরের ভূমিকা: এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও অন্য হাজতি আসামি বাশারকে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে আসেন। খাইরুল বাশার ড্রাইভারের সিটের পাশে বসলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। মূলত সেখান থেকেই আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে চড়ে পালিয়ে যান পিচ্চি রাজা।

  • ঘটনা সাজানোর অপচেষ্টা: পরবর্তীতে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে আটটার দিকে পূর্বনির্ধারিত ও সাজানো ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন এবং স্কট পার্টির অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে এজাহার দায়ের করেন।

  • গ্রেফতার ও উদ্ধার: বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ড্রাইভার কামাল হোসেনের বাসা থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বহুল আলোচিত এই ঘটনার আট দিন অতিবাহিত হলেও পিচ্চি রাজাকে (৩০) এখনো পুনর্গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তার পলায়নে সরাসরি সহায়তার অভিযোগে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি তিন পুলিশ সদস্যকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat