আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার খাল ও নদী খনন এবং পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ ও তিস্তা ব্যারেজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি দেশের পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং সার্বিক উন্নয়নের এই রূপরেখা তুলে ধরেন।
সম্মেলনে পরিবেশ, জলবায়ু ও পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা
জলবায়ু ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পানিসম্পদ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মাহদী আমিন জানান যে, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং প্রায় ২০ হাজার নদী ও খাল পুনঃখনন করা হবে। এর পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে সুপেয় পানি ও সেচ ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করা হবে।
পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা: প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুমুখী সম্পর্ক গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে কাজ করলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা ও কার্ডভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সেবা
ইউনিভার্সাল কার্ডের দিকে অগ্রযাত্রা: দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর এই মুখপাত্র। এর অংশ হিসেবে নারীদের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’ এবং দেশের সব নাগরিকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব: ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থান: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের প্রভাবে কিছু পুরোনো কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হলেও সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা ও তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।