চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব:
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড’ শীর্ষক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর এনসিটি ও এর সঙ্গে যুক্ত ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে রেয়াতি বা কনসেশন চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।
কয়েক দফা আলোচনা ও দর-কষাকষি:
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোতে এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিষয়টি দর-কষাকষির পর্যায়ে আসে।
শ্রমিকদের আন্দোলন এবং আলোচনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের আপত্তির কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় আলোচনা শুরু হয় এবং গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।
এনসিটির গুরুত্ব ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা:
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান চারটি টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি অন্যতম এবং এটি সবচেয়ে বড় টার্মিনাল।
গত অর্থবছরে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে এনসিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বিদেশি অপারেটরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটিই টার্মিনাল পরিচালনা করবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড যুক্ত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।