×
সদ্য প্রাপ্ত:
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু আজ মাদারীপুরে ৮০০ কোটি টাকার সেতু, নির্মাণস্থান পরিদর্শনে এমপি জাহান্দার আলী একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ফুলগাজীতে প্রবাসীর জমিতে আগুন, শতাধিক ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক গোল, দুই অ্যাসিস্টে মেসির রাজকীয় বিদায় ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে ২০ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু: মাহদী আমিন দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ৯ কেজি স্বর্ণ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-০৮
  • ৩১ বার পঠিত
শাহিদুল ইসলাম, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

একটি বহুতল ভবনের ভিত্তি যেমন তার মাটির নিচের পিলার, তেমনি একটি উন্নত জাতির মূল ভিত্তি হলো তার নাগরিকদের নৈতিকতা। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে অপরাধ, দুর্নীতি ও পারিবারিক কলহের যে চিত্র আমরা দেখছি, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি আমাদের সামষ্টিক নৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। জিপিএ-৫ আর ডিগ্রি অর্জনের অন্ধ দৌড়ে আমরা হয়তো মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছি, কিন্তু মনুষ্যত্ব ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে সেই মেধা দিন শেষে আলোর বদলে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নৈতিক শিক্ষা কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি হলো জীবনযাপনের শিল্প। ভালো-ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝে ন্যায়ের পথে চলাই হলো নৈতিকতা। আজ আমাদের তরুণ প্রজন্মের একাংশ যে মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো পারিবারিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার চরম অভাব।

পরিবার হলো মানুষের প্রথম পাঠশালা। অতীতে যৌথ পরিবারগুলোতে গল্প, উপদেশ আর গুরুজনদের শাসনের মাধ্যমে শিশুরা সততা, ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতার পাঠ পেত। কিন্তু আধুনিক একক পরিবারগুলোতে মা-বাবার অতিব্যস্ততা এবং সন্তানদের হাতে ডিভাইসের সহজলভ্যতা সেই সুযোগ কেড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাও অনেকাংশে বাণিজ্যিক ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সেখানে মুখস্থ বিদ্যা ও ভালো ফলের ওপর যতটা জোর দেওয়া হয়, একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার ওপর ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

এই ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিবারিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই পাঠ্যপুস্তকে কেবল তাত্ত্বিক নৈতিকতা নয়, বরং বাস্তব জীবনের শুদ্ধাচার, শিষ্টাচার এবং মানবিক মূল্যবোধের গল্প ও অনুশীলন বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষকদেরও হতে হবে আদর্শ রোল মডেল, যাতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আচরণ অনুকরণ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মা-বাবাকে সন্তানের কেবল বৈষয়িক চাহিদাই নয়, মানসিক ও নৈতিক বিকাশের দিকেও নজর দিতে হবে। সন্তানকে সময় দেওয়া, তাদের ভালো മন্দের খোঁজ নেওয়া এবং ঘরে সততার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, নৈতিকতাহীন শিক্ষা এক ধরনের পঙ্গুত্ব। আমরা যদি এখনই পরিবার এবং সমাজ স্তরে নৈতিক শিক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটাতে না পারি, তবে তথাকথিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনো টেকসই ভবিষ্যৎ এনে দিতে পারবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat