নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে পাইকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তা ও মীরওয়ারিশপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন এই আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
দেশব্যাপী এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের চলমান বাজার অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্র থেকে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৮৩৭ টাকা এবং পাইকারি ক্রয়মূল্য ১৭৪২ টাকা হলেও—লোড-আনলোড, শ্রমিক খরচ, পরিবহন ও মুনাফাসহ পাইকারি বিক্রয়মূল্য ১৯০২ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিন তদন্তে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২০০০ টাকা করে বিক্রির সুনির্দিষ্ট রশিদ ও প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ও ৪০ ধারায়—মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে গ্যাস বিক্রির অপরাধে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে এই শাস্তিূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়:
সালমা ট্রেডার্স: ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
তাহির কর্পোরেশন: ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন জানান, সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।