দেশের প্রথম কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি ঘটেছে। এই বাজারে ব্রোকার প্রস্তুতের অংশ হিসেবে ৬টি খ্যাতনামা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে ‘কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার’ হিসেবে নিবন্ধনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০৩৫তম জরুরি কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সুপারিশের ভিত্তিতে যোগ্যতা অর্জনকারী যে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে এলওআই দেওয়া হচ্ছে:
সোহেল সিকিউরিটিজ লিমিটেড
আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড
এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড
বি রিচ লিমিটেড
পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড
ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড
(প্রাথমিক পর্যায়ে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে ৬টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।)
শুরুতে সোনা ও রূপা: কমোডিটি বাজারে লেনদেনের প্রাথমিক পর্যায়ে 'সোনা' ও 'রূপা' নিয়ে নগদে নিষ্পত্তিযোগ্য (Cash-settled) চুক্তি চালু হবে। অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষে সরাসরি পণ্য হাতবদল না হয়ে মূল্য পার্থক্যের ভিত্তিতে নগদে অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হবে।
পরবর্তী পণ্যসমূহ: পরবর্তীতে কপার, তুলা ও ক্রুড পাম অয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল এতে যুক্ত করা হবে। দেশে অনুমোদিত গুদাম ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের গুণগত মান যাচাই ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সরাসরি পণ্য সরবরাহের (Physical delivery) সুযোগ তৈরি হবে।
মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: এই বাজার কেবল ফটকা মুনাফা করার জন্য নয়, বরং আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও উৎপাদকদের পণ্যের দরপতন বা দরবৃদ্ধির আর্থিক ঝুঁকি কমাতে (Hedging) সহায়তা করবে।
২০০৭ সালে প্রথম উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০২৪ সালে কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারের চূড়ান্ত বিধিমালা রূপ নেয়। সিএসই এরই মধ্যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এখন ব্রোকারদের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হলেই দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট।