×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৭
  • ২৮ বার পঠিত

আইন ও আদালত প্রতিবেদকঃ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট ২০ জন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি ও অনিয়মের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পিছিয়ে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যে ভুয়া শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের দিন ধার্য ছিল আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। তবে নির্দিষ্ট দিনে মামলার তদন্তভারপ্রাপ্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

ফলশ্রুতিতে, ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পেশের জন্য পরবর্তী এই তারিখ ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষযটি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংস্থাটির সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে আদালতে এই মামলার আবেদন জমা দেন। তৎকালীন আদালত বাদীর প্রাথমিক জবানবন্দি নথিভুক্ত করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পেশের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার অপরাপর আসামিরা হলেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং ডা. মো. সিরাজুল করিম।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড মামলার বাদী প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার হস্তগত করে, যা উক্ত প্রতিষ্ঠানের সর্বমোট শেয়ারের প্রায় ৪.৮১৬০ শতাংশ। এসব অর্জিত শেয়ারের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫১ কোটি টাকা।

অথচ নথিপত্র অনুযায়ী ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা হলেও বাস্তবে এর পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা মূলধনের একটি কোম্পানির পক্ষে ২৫১ কোটি টাকার বিপুল শেয়ার কিনে নেওয়া তাদের প্রকৃত আর্থিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।

এ কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশ ও পূর্বপরিকল্পিত অসৎ উদ্দেশ্যে জনগণের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এই বিশাল আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আরজিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট শেয়ারের প্রায় ৮১.৯২ শতাংশই অধিগ্রহণ করে নেয় মোট ২৪টি শেয়ারহোল্ডার প্রতিষ্ঠান, যাদের একটি বড় অংশ সরাসরি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এই শেয়ারের লেনদেন প্রক্রিয়া, মূলধনের উৎস এবং কেনাবেচার তারিখ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—উভয় পক্ষের শেয়ার কেনা ও বেচার দিনটি একই ছিল। যার অর্থ দাঁড়ায়, সম্পূর্ণ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট কৌশলে নিয়ন্ত্রণ ও সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এস আলম গ্রুপ, তার শীর্ষ পরিচালনা পর্ষদ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠান ও তাদের মনোনীত পরিচালকেরা একজোট হয়ে কৌশলগতভাবে ব্যাংকটির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেওয়ার পথ বেছে নেন। যার সম্পূর্ণ দায়ভারও যৌথভাবে তাদের ওপরই বর্তায়। এই অপরাধমূলক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থভিত্তিক স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও তদারকি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে; এবং নিজেদের অবৈধ লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে আমানতকারীদের বিপুল অর্থ তসরুপ করে ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে জোর দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat