বিনোদন ডেস্কঃ
কিংবদন্তি সুফি সংগীতশিল্পী ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ কাওয়ালিসন্ধ্যা, যার শিরোনাম ‘ইশক-এ-নুসরাত’। আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটের খামারবাড়ি সংলগ্ন কেআইবি অডিটরিয়ামে এই জমকালো আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস’ নামক প্রতিষ্ঠান এই পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আয়োজকদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার এই কাওয়ালি আসরে সুর পরিবেশন করবে দেশের নামী কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সুফিতান’ এবং দেশের প্রথম কাওয়ালি ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাফস’। পাশাপাশি, ‘এইচইউ সুফি ট্রুপ’-এর পরিবেশনায় মঞ্চ মাতাবে আকর্ষণীয় সুফি নৃত্য।
ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন ও বহুমুখী অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ আলোকচিত্র গ্যালারি ও ট্রিবিউট এক্সিবিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সুফি ভাবগাম্ভীর্যে পুরো ভেন্যু সাজানো হবে, যাতে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা নিখাদ সংগীতের পাশাপাশি সুফি সংস্কৃতির অনন্য আমেজ উপভোগ করতে পারেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘ইশক-এ-নুসরাত’ কেবল একটি সাধারণ সংগীত সন্ধ্যা নয়; বরং এই মহান শিল্পীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর চিরন্তন ও অমলিন সংগীতের আবেদন উদ্যাপনের একটি আন্তরিক প্রয়াস।
আয়োজক কতৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য অডিটরিয়ামের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূল সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হবে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং তা চলবে রাত দশটা পর্যন্ত। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করার মতো উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সীমিত আসনসংখ্যার এই চমৎকার আয়োজনে টিকিটের ন্যূনতম মূল্য শুরু হয়েছে ৯৯৯ টাকা থেকে। কাওয়ালিপ্রেমী ও সংগীতানুরাগীদের জন্য কিংবদন্তি এই সুরের জাদুকরের স্মরণে সুফি আবহে একটি মায়াবী সময় কাটানোর এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করা ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খান বিশ্বজুড়ে কাওয়ালি শিল্পকে মূলধারার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জনপ্রিয় ও সমাদৃত করে তোলার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর অনন্যসাধারণ কণ্ঠস্বর এবং জাদুকরি পরিবেশনা আজও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সংগীতপ্রেমীর মন জয় করে চলেছে।