×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৭
  • ২০ বার পঠিত

যশোর প্রতিবেদকঃ

যশোর থেকে ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেন চালুকরণসহ মোট ছয় দফা যৌক্তিক দাবিতে আবারও রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সচেতন যশোরবাসী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যশোর কালেক্টরেট চত্বরে ‘বৃহত্তর যশোর রেলযোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে অবিলম্বে এই দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে একটি প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঘোষিত প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি থেকে আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, রেলওয়ের উন্নয়নে তাঁরা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে যদি তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তবে তারা আর কোনো প্রতীকী কর্মসূচি পালন করবেন না; সরাসরি যশোর জংশন ঘেরাও করে সর্বাত্মক রেল চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রধান ছয় দফা দাবিগুলো হলো: ১. অবিলম্বে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে একটি করে সকাল বেলার (প্রভাতী) আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা। ২. সাধারণ যাত্রী ও স্বল্প আয়ের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন করা। ৩. দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে দ্রুত ডাবল রেললাইন স্থাপন করা। ৪. ট্রেনের সাধারণ টিকিটের মূল্য যেকোনো বাস ভাড়ার তুলনায় সবসময় কম রাখা। ৫. নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছাড়াও সহজ উপায়ে টিকিট পাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং বয়স্ক নাগরিকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিট প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা। ৬. আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, ফুল, কাঁচা শাকসবজি এবং মাছ পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে লাগেজ বা পার্সেল বগি যুক্ত করা।

কর্মসূচি চলাকালে বৃহত্তর যশোর রেলযোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ও প্রকৌশলী রুহুল আমিন তাঁর বক্তৃতায় বলেন, সূর্যোদয়ের পর যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি ডেডিকেটেড ‘প্রভাতী ট্রেন’ চালুর দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। এই ট্রেনটি চালু হলে সাধারণ মানুষ নিজ এলাকা থেকে ভোরে রওনা দিয়ে রাজধানীতে গিয়ে নিজেদের অফিশিয়াল বা জরুরি কাজ সম্পন্ন করে আবার একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন। একইভাবে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের পথে একটি ফিরতি ট্রেন চালুরও জোর দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরসহ আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। এই রুটে ট্রেনের ট্রিপ বা সংখ্যা বাড়ালে বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা রাষ্ট্রীয় কোষাগার আর্থিকভাবে দারুণভাবে লাভবান হবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সড়কপথের তুলনায় রেলপথ একদিকে যেমন অধিক নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব, তেমনি এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার খরচও অনেক কম।

যশোর কালেক্টরেট চত্বরে আয়োজিত এই প্রতীকী রেল অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বৃহত্তর যশোর রেলযোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—প্রবীণ রাজনীতিক হাসিনুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সিপিবি যশোরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, রেল আন্দোলনের স্থানীয় নেতা আমিনুর রহমান হিরু, তসলিমুর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বাম ধারার নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, রেল আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, কোটচাঁদপুরের আন্দোলনের প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ যশোরের জেলা প্রশাসকের হাত দিয়ে মাননীয় রেলমন্ত্রী বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট স্মারকলিপি পেশ করেন। জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান স্বয়ং স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat