নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৮ মাস অতিক্রম হতেই আবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য ঘোষিত ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই মর্যাদাপূর্ণ উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীসহ সর্বমোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী লড়ছেন। অবাধ নির্বাচন আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালেই সব ধরনের প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সময়সীমা শেষ হয়েছে।
তবে মাত্র ৮ মাস আগের সাধারণ নির্বাচনের সময় ভোটারদের মাঝে যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ ছিল, এবারের উপনির্বাচনে তার ভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভোটগ্রহণ ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলক আগ্রহের ঘাটতি চোখে পড়ছে।
ভোটের সার্বিক আবহ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সারাদেশে একযোগে ভোট না হয়ে কেবল একক একটি আসনে উপনির্বাচন হওয়ায় আগের মতো আনন্দ কাজ করছে না। মাত্র অর্ধবছর আগেই দেশের মানুষ বড় পরিসরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উপনির্বাচন নিয়ে নতুন করে বড় কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না।
উচ্ছ্বাসের অভাব সত্ত্বেও সচেতন সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে চান, যিনি এলাকার সার্বিক মৌলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা, তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি হবেন একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যিনি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলাকে একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করতে নিরলস কাজ করবেন।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় প্রধান।
আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন উপনির্বাচন সম্পূর্ণ সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৫ লাখেরও বেশি ভোটার অধ্যুষিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটার টানাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে মাঠ প্রশাসন দাবি করছে, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে ও আমেজ ফিরিয়ে আনতে তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।