চট্টগ্রাম প্রতিবেদক:
কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ১৭৯ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে এককভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানেই আটক করা হয়েছে ৬৩৩ জনকে। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই শেষে আটক কিশোরদের মধ্যে ৪০৮ জনকে অভিভাবক ও স্থানীয়দের জিম্মায় মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে বাকি ২২৫ জনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে শুরু করে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার এই যৌথ চিরুনি অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
অভিযানের সার্বিক বিষয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, অভিযান পরিচালনাকালে কেবল মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ১৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় অপরাধীদের কাছ থেকে ২৩ হাজার ৯৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫৩ কেজি ৯৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তা ছাড়া পরিচালিত মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ জন অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং নগদ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ২৪ ঘণ্টার এই সময়ে বিভিন্ন থানায় মোট ৪০টি নতুন মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৩৩ জনের মধ্যে সর্বাধিক ২৮২ জনকে আটক করা হয়েছে কুমিল্লা জেলা থেকে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলায় ৯২, লক্ষ্মীপুরে ৫৭, নোয়াখালীতে ৫৫, চাঁদপুরে ৪৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৩, কক্সবাজারে ২৬, ফেনীতে ১৯, রাঙামাটিতে ১৪, খাগড়াছড়িতে ৭ এবং পার্বত্য বান্দরবান জেলা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয় ৩০ জন সদস্যকেও এই অভিযানে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় ২০, ফেনীতে ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩, চাঁদপুরে ২ এবং চট্টগ্রাম জেলা থেকে ১ জন সদস্য রয়েছেন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেফতারকৃত মোট ১ হাজার ১৭৯ জনের আইনি বিন্যাসে দেখা যায়—নিয়মিত মামলায় ১২০, পূর্বের ঝুলে থাকা মামলায় ৮১, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৪৮, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৬, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য প্রচলিত আইনে ৪৮, সাধারণ গ্রেফতারি পরোয়ানায় ১৫০ এবং সাজা পরোয়ানামূলে ১৫ জন আসামি রয়েছেন। এর বাইরে সুনির্দিষ্ট মাদক মামলায় ৭৮ জন এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলার আওতায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৬২ জনকে জালে তুলেছে পুলিশ।
জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও অপরাধ দমনে জনস্বার্থে এই ধরনের বিশেষ অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।