×
সদ্য প্রাপ্ত:
একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সব পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা তাহসিফ সউরি হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৪
  • ২২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কৃষিখাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক এবং জলবায়ু সহনশীল খাতে রূপান্তর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মেলাটি ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ।” ঐতিহ্যবাহী সনাতন কৃষিপ্রজ্ঞা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন কেবল উৎপাদনশীলতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে গোটা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি তরুণ সমাজকে নতুন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শক্তিকেন্দ্র হলো কৃষি। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের কৃষি ও কৃষকদের অবদান অপরিসীম। এ কারণে প্রান্তিক কৃষকের দ্বারে আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে একটি সমন্বিত ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে এই মেলা অত্যন্ত অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের যৌথ বিকাশেও এটি দৃশ্যমান অবদান রাখবে।

অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আধুনিকায়নে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিশেষ সম্ভাবনা তুলে ধরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চীনের কারিগরি সহযোগিতা ও অবকাঠামোগত সহায়তার ওপর জোর দেন। চীনের উদ্ভাবিত উন্নত কৃষিযন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের কৃষি খাতকে আরও বেশি গতিশীল করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মেলায় সর্বাধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত জাতের বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা, শস্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি, দুগ্ধ ও পোলট্রি খাতের আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বহুমুখী ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অসামান্য সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছে দেশের সাধারণ জনগণ। সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘কৃষক কার্ড’-এর সাহায্যে সরাসরি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কৃষিবিমা চালুকরণ এবং কৃষিপণ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

এ ছাড়া উঠতি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী নানা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি কৃষক তার কঠোর শ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন, কৃষি উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল। কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থার এই অগ্রগতির মধ্য দিয়েই সরকার একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য, পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এই মেলার সার্বিক সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat