×
সদ্য প্রাপ্ত:
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, চব্বিশ ছিল রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী একটি মহল চক্রান্ত করে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কে প্রবাসীদের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: চালকসহ গ্রেফতার ৩, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার তাহসিফ হত্যা মামলায় আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১১-০৭
  • ১৮ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক:

ঐতিহাসিক 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত বিশালাকার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-পূর্ব মহাসমাবেশে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে চরম হুংকার প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করাই ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ও লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একপর্যায়ে একদলীয় বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪-এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা আবারো নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে এনেছে এবং স্বৈরাচারকে এ দেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করেছে।”

বক্তব্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, “পরাজিত অপশক্তি এখন আবার নতুন করে ষড়যুদ্ধে মেতে উঠেছে। যারা এ দেশের মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাংলাদেশের অখণ্ড স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে মেনে নিতে পারেনি, তাদের নীল নকশা এখনো থেমে থাকেনি। তবে এ দেশের বীর জনগণকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এ ধরনের সব ষড়যুদ্ধে আবারও দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। আজকের এই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব র‍্যালি হোক আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকার। একই সাথে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ রক্ত ও জীবন বিসর্জন দিয়ে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে, আজকের এই র‍্যালি হোক সেই গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুদৃঢ় সোপান।”

সমাবেশ শেষে বেলা সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পরপরই তিনি নিজ পায়ে হেঁটে বিশাল এই শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থেকে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামন থেকে বর্ণাঢ্য মিছিলটি যাত্রা শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবন মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে অভূতপূর্ব জনস্রোত নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে সফলভাবে শেষ হয়। সেখানে একটি সুসজ্জিত খোলা ট্রাকে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হ্যান্ড মাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি টানেন তারেক রহমান।

পুরো শোভাযাত্রার গতিপথজুড়ে রাজধানীজুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। রাস্তার উভয় পাশে উৎসুক পথচারী ও অসংখ্য সাধারণ মানুষের ঢল নামে; যেখানে সর্বস্তরের জনতা লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা নেড়ে ও কারতালির মাধ্যমে শোভাযাত্রাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিতভাবে নানা রঙের আকর্ষণীয় ব্যানার, সুদৃশ্য ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকাসহ রাজপথগুলোতে দিনভর স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন।

এদিন সকাল হতেই ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহ থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড রঙিন মিছিল সহকারে নয়াপল্টনে এসে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে নয়াপল্টন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার এই উপচে পড়া ভিড়ের কারণে নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং বায়তুল মোকাররমসহ গোটা আশপাশের মূল সড়ক ও গলিপথগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চিত মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতা একাত্ম হয়ে এক ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক পট পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সেদিন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং তাঁর বলিষ্ঠ পরিচালনায় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, একই সাথে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।

তৎকালীন সেই ঐতিহ্যবাহী সিপাহী-জনতার ঐক্যের ঐতিহাসিক চেতনাই বর্তমান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মূল ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে গণ্য করা হয়।

ঐতিহাসিক এই দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সাত দিনব্যাপী বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঘোষিত তালিকার প্রথম দিন আজ শনিবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে ফাতেহা পাঠ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে সকালে রাজধানীর বনানীস্থ আর্মি স্টেডিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে দুপুরে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত প্রান্তিক গ্রামপুলিশ বাহিনীর মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক যোগ দিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ঘোষিত এই সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat