আমাজনের একটি পণ্যবাহী বিমান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং রানওয়ে পেরিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৫ জন আশঙ্কাজনকসহ গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের একটি পার্কিং এলাকায় গিয়ে থামে। সেখানে মাটিতে থাকা কয়েকটি গাড়ির ওপর বিমানটি আছড়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মায়ামি-ডেইড কাউন্টির মেয়র দানিয়েলা লেভিন কাভা নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, দুর্ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়। মায়ামি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান রেইড জাদাল্লাহ জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজন দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির ভেতরে বা নিচে চাপা পড়েছিলেন, যাদের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানে আগুন ধরে যায়। দুই শতাধিক দমকলকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে বিমান থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি উদ্ধার কাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ঘটনার পর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখায় বহু ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়, যার ফলে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
অ্যামাজনের গ্লোবাল মিডিয়া রিলেশনস বিভাগের পরিচালক কেলি ন্যান্টেল নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জানা গেছে, বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক চার্টার সংস্থা '২১ এয়ার'।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যানুযায়ী, অবতরণের সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০৭ কিলোমিটার (১১২ নট)। ঘটনার সময় বিমানবন্দরে হালকা ঝড়বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকলেও সেটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।