দীর্ঘ সাত বছরের ব্যবধানের পর বহুপক্ষীয় জোট ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সীমান্ত উত্তেজনা এবং কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান শীতল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০১৯ সালের পর এটিই হবে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরের মধ্য দিয়ে এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে নতুন দুয়ার খুলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে:
বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক লেনদেনে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা: সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে চীনের প্রেসিডেন্টের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে হিমালয় সীমান্ত সংঘাত (লাদাখ ও অরুণাচল সীমান্ত পরিস্থিতি) এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে।
আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য: দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ভারতের নিজস্ব বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে এই দুই শীর্ষ নেতার মুখোমুখি বৈঠক পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
দক্ষিণ এশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশও অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে এই দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।