ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই বহুল প্রতীক্ষিত যৌথ সনদ ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ (New Delhi Declaration) গ্রহণে একমত হয়েছেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারা। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সর্বসম্মত এই যৌথ ঘোষণায় সব ধরনের একতরফা সামরিক আগ্রাসন ও যুদ্ধের চরম নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সদস্য ১১টি দেশের প্রতিনিধিরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে তৈরি এ খসড়া অনুমোদনে সম্মতি জানান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জোটের সদস্য দেশগুলোর ভিন্নমুখী বৈশ্বিক অবস্থান সত্ত্বেও নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এ সংবেদনশীল সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র তৈরি সম্ভব হয়েছে:
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একাট্টা অবস্থান: কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান একতরফা সামরিক হামলা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
কূটনীতি ও সংলাপে জোর: মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত সহ আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকট নিরসনে জাতিসংঘ সনদ (UN Charter) অনুসরণ করে কূটনৈতিক আলোচনা ও টেকসই সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একতরফা নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ: আন্তর্জাতিক আইন বহির্ভূত একতরফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্মুক্ততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত ১১টি সদস্য রাষ্ট্র—বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ইরান, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্ব-স্ব কৌশলগত আগ্রহ ও অবস্থান বজায় রেখে এ ধরণের নিরপেক্ষ তবে দৃঢ় যৌথ অবস্থান গ্রহণ করা বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল রোববার স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা (BRICS Pay), জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল অর্থনৈতিক রূপরেখাটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।