বিআরটিএর অনুমোদন ব্যতিরেকে দেশের কোনো সড়ক বা মহাসড়কে অননুমোদিত স্লিপার বাস চালানো যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদন নাকচ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কেবল যেসব বাসের রুট পারমিট ও চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে, শুধু সেগুলোই সড়কে চলাচল করতে পারবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতে বিআরটিএর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান:
কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা আছে। কোনো যানবাহন যদি প্রস্তুতকারক বা বিআরটিএর নির্ধারিত নকশা ও টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন লঙ্ঘন করে রূপান্তর করা হয় (যেমন সাধারণ বাসকে কেটে স্লিপার বাসে রূপান্তর), তবে তা আইনের ৮০ ও ৮৪ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
দণ্ড ও জরিমানা: এ অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানের বিধান রয়েছে।
রুট পারমিট বাধ্যতামূলক: আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী বিআরটিএর রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহনই সড়কে চালানো নিষিদ্ধ।
আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, "স্লিপার বাসের কোনো আইনি পারমিশন বিআরটিএ দেয়নি। ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো স্লিপার বাস মহাসড়কে নামার সুযোগ নেই। হাইকোর্টও তাদের আবেদনে সাড়াজনেননি এবং চলাচলের অনুমতি দেননি।"
এর আগে মহাসড়কে নিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিআরটিএর অনুমোদন না থাকার বিষয় তুলে ধরে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। পরবর্তীতে বাস মালিক সমিতি তাদের আনীত স্লিপার বাসগুলো চলাচলের বৈধতা ও অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল, যা আজ আদালত নাকচ করে দেন।