দেশের দূরপাল্লার রুটগুলোতে ফিটনেস ও রুট পারমিটের নিয়ম তোয়াক্কা না করে অবাধে চলাচল করছে অন্তত ৮২৯টি অনুমোদনহীন ‘স্লিপার বাস’। অনুমোদন ছাড়াই তৈরি ও রূপান্তরিত এসব বিলাসবহুল দূরপাল্লার বাসে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পরিবহন খাতের হালনাগাদ তথ্যাবলি ও বাংলাদেশ বিআরটিএ-এর (BRTA) সাম্প্রতিক তদারকি প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সড়ক তদারকি সংস্থার মতে, দূরপাল্লার স্লিপার বাসগুলোর বেশিরভাগই মূল চ্যাসিসের অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বডি বিল্ডিং ওয়ার্কশপে রূপান্তর করা হয়েছে:
নকশাগত ক্রুটি ও জরুরি নির্গমন পথহীনতা: অনুমোদনহীন এসব বাসে দুই তলা বিশিষ্ট সিট ও স্লিপার বেড তৈরির কারণে বাসের ভেতরের চলাচলের পথ (Aisle) অত্যন্ত সংকুচিত থাকে। তাছাড়া কোনো জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit) না থাকায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ভারসাম্যহীনতা ও উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি: বাসের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করায় উচ্চ গতিতে চলাচলের সময় বাসের সেন্টার অব গ্র্যাভিটি নষ্ট হয়। ফলে মোড় নেওয়ার সময় এ জাতীয় রূপান্তরিত স্লিপার বাসের উল্টে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
অগ্নিঝুঁকি ও অতিরিক্ত ওয়্যারিং: আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য প্রতিটি শয্যায় আলাদা লাইট, এসি ভেন্ট, এবং মোবাইল চার্জিং সুবিধা দিতে গিয়ে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রায়শই শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, যে ৮২৯টি বাসের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই, সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
| বাস ক্যাটাগরি | অনুমোদন স্থিতি | প্রধান নিরাপত্তাঝুঁকি |
| লাইসেন্সহীন স্লিপার বাস | ৮২৯টি (অনুমোদনহীন ও রূপান্তরিত) | অতিরিক্ত উচ্চতা, জরুরি নির্গমন পথের অভাব, অগ্নিঝুঁকি |
| আইনগত ব্যবস্থা | ডাম্পিং ও রুট পারমিট বাতিল প্রক্রিয়াধীন | হাইড্রোলিক ব্যবস্থা ও স্থানীয় বডি বিল্ডিং সিলগালা |
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অবিলম্বে এই অনুমোদনহীন দূরপাল্লার বাসগুলো নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।