দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবশেষে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও প্রশাসনিক গুরুত্বের সঙ্গে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত ও যুগান্তকারী নতুন নবম জাতীয় বেতন স্কেলের (পে-স্কেল) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন সরকার কর্তৃক সফলভাবে জারি করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক দক্ষতা, দুর্নীতি হ্রাসকরণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জাতীয় আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এক সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বাজেট ও প্রজ্ঞাপন শাখা থেকে জারিকৃত এই নতুন ও আধুনিক প্রজ্ঞাপনে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপকে গুরুত্ব দিয়ে মূল বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, সন্তানগণের শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং উৎসব বোনাসসহ অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য, বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী সংস্কার আনা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদ, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা মনে করছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক ভূমিকা পালন করবে, যদিও এর সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন দেশের জাতীয় বাজেটের ওপর কী ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং তা সামাল দিতে সরকার ভবিষ্যৎ রাজস্ব আদায়ে কী কৌশল গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন গোটা দেশের অর্থনীতিবিদ ও সচেতন মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।