বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সুসংহত, মানসম্মত এবং বৈশ্বিক মানের কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার এক যুগান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সকল বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি অভিন্ন কারিকুলাম ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার ভেতরে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই ঘোষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদ্যমান আকাশচুম্বী ফারাক ও মান বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমতাভিত্তিক শিক্ষাবশে তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যার সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মনে করছেন যে, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং জোরদার করা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা গেলে তা দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, তবে এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি তদারকির সফল রূপায়নই হবে মূল চাবিকাঠি।