শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার মাধ্যমে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর বৈশ্বিক পরিবারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ও প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মানদণ্ড অনুযায়ী, দেশীয় প্রযুক্তির সফল সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে নির্মিত এই সুবিশাল পারমাণবিক প্রকল্পের অধীনে চার শতাধিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত ইউনিট) নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সার্বিক অবকাঠামো চালুর এই ঐতিহাসিক অর্জন দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি পূরণে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারের এই সদস্যপদ লাভ করার ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি অংশ নেওয়ার অনন্য কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অধিকার অর্জন করল, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে হাজার হাজার মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা আরও বেশি গতিশীল হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের পরমাণু বিজ্ঞানী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।